শিরককে ভয় করা

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সুলায়মান আত-তামিমি(রাহিমাহুল্লাহ) | মুদ্রলেখক: মনজুর আহ্‌মদ

আল্লাহ্‌র বাণী-

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ

অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাঁর সাথে অংশীদার করার পাপ ক্ষমা করেন না তা ব্যতীত যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন”।১ (সূরা নিসা: ৪৮)

টীকা *।  তাওহীদ প্রতিষ্ঠাকারীগণ তাওহীদের পথে চলার সাথে সাথে শিরককে ভয় করেন। যে ব্যক্তি শিরককে ভয় করে যে শিরকের অর্থ ও তার প্রকারসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে যাতে এগুলোয় পতিত না হয়।

টীকা ১।إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ কতিপয় বিদ্যান বলেন, এখানে ছোট, বড় ও গোপন সকল শিরক উদ্দেশ্য। শিরক এতই ভয়াবহ যে, তাওবা ছাড়া আল্লাহ্‌ এগুলো ক্ষমা করেন না। কারণ তিনিই সৃষ্টি করেছেন, জীবিকা দিয়েছেন দান ও অনুগ্রহ করেছেন। অতএব কিভাবে মন অন্য দিকে ধাবিত হতে পারে? এ ব্যাখ্যাই গ্রহণ করেছেন ইমাম ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়্যিম, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্‌হাব ও অধিকাংশ বিদ্যান। অতএব যখন কোন শিরকই ক্ষমা করা হবে না সুতরাং তা থেকে ভয় করা অপরিহার্য। আর শিরক হলো সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। আর যেহেতু রিয়া- লৌকিকতা, আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে শপথ, তাবীজ-কবজ ঝুলান, বালা অথবা সুতা পরা অর্থবা আল্লাহ্‌ প্রদত্ত নিয়ামতের কোন অংশ অন্যের প্রতি সম্পর্কিত করা ইত্যাদি। যখন শিরক, আর তা ক্ষমা করা হবে না। সুতরাং তা থেকে এবং মহা শিরক থেকেও সবচেয়ে বড় ভয় করা অপরিহার্য। শিরক যেহেতু মানুষের অন্তরে সৃষ্টি হয়ে থাকে অথএব, মানুষের উচিত শিরকের যাবতীয় প্রকার সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা, যেন তাতে পতিত না হয়। অতপর মুহাম্মাদ বিন সুলায়মান আত-তামিমি (রহ:) ঐ আয়াত বর্ণনা করেন যাতে ইবরাহীম (আ:) এর দোয়া রয়েছে:
وَاَجْنُبْىِ وَبَنِىَّ أَن نَّعْبُدَ ألْأَ صْنَامَ

ইব্‌রাহীম খলিল (আ:) বলেছিলেন:

وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الْأَصْنَامَ

অর্থ: “আমাকে ও আমার বংশধরকে মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখ”।২ (সূরা ইবরাহীম: ৩৫)

টীকা ২।  এটি হচ্ছে মর্দে কামালের অবস্থা। তারা শুধু তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হন না বরং শিরক ও তার মাধ্যমকেও ভয় করেন। أصنام শব্দটি صنم এর বহু বচন। আল্লাহ ব্যতীত যার ইবাদত-পূজা করা হয় তার ছবি ও প্রতিকৃতি صنم বলে। তাই সেটি মানুষের চেহারার আকারে হোক প্রাণীর শরীর মাথা ইত্যাদির আকারে হোক, চাঁদ, সূর্য, কবর অথবা অন্য যে কোন আকারেই হোক। الوشن : “অসান” হল, আল্লাহ ব্যতীত যার ইবাদত করা হয়, চাই তা ছবি আকৃতিতে হোক যা আসনামের-মূর্তির অন্তর্ভূক্ত, অথবা ছবির আকৃতির না হোক যেমন: কবর, মাজার।

হাদীসে আছে:

“আমি তোমাদের জন্য ছোট শিরকের আশংকা সবচেয়ে বেশি করি”। তাকেঁ এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তা হচ্ছে রিয়া বা প্রদর্শন ইচ্ছা।৩ (আহমদ, তাবরানী)

টীকা ৩।  রিয়া সম্পর্কে মানুষ অসচেতন এবং আল্লাহ্‌ এটি ক্ষমা করেন না তাই মহানবী এ বিষয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন। রিয়া দুই প্রকার: () মুনাফিকদের রিয়া। অর্থাৎ মুখে ইসলাম প্রকাশ করে আর অন্তরে থাকে কুফরী {يُرَآءُونَ اُلنّاَسَ وَلاَ يَذْ كُرُونَ اَللَّهَ إِلاَّ قَلِيلَا} অর্থাৎ “তারা লোকদেরকে দেখায় আর তারা অতি অল্পই আল্লাহকে স্মরণ করে”।() তাওহীদপন্থী মুসলমানদের রিয়া। যেমন : খুব সুন্দর করে নামায পড়ে যাতে মানুষ তা দেখে প্রশংসা করে। একটি ছোট শিরক।

ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:

“যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে কোন অংশীদারকে ডাকা অবস্থায় মারা যাবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে”।৪ (বুখারী)

“যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সাথে অংশীদার না করে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কোন অংশীদার সাব্যস্ত করে সাক্ষাৎ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে”।৫

টীকা ৪।  আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে ডাকা বড় শিরক। সহীহ হাদীসে আছে, “ডাকটাই ইবাদত”। যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে অন্য কারো জন্য ইবাদতের কিছু অংশ সাব্যস্ত করল সে নিজের জন্য জাহান্নামকে ওয়াজিব করে নিলো। নবীর বাণী: د خل النار অর্থাৎ যেমন কাফেরদের অবস্থান জাহান্নামে চিরস্থায়ী অনুরূপ তার অবস্থাও। কেননা মুসলমান যদি মহা শিরকে পতিত হয় তবে তার আমল নষ্ট হয়ে যাবে, যেমন: আল্লাহ্‌ তায়ালা তাঁর নবীকে বলেন:

وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

অর্থ: “আর তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহী হয়েছে যে, তুমি শিরক করলে নিশ্চয়ই তোমার কৃতকর্ম নষ্ট হয়ে যাবে এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়বে”। (সূরা যুমার: ৬৫)

হাদীসে বর্ণিত শব্দ من دون الله-এর তাফসীরকারক ও দ্বীনি গবেষকদের মতে তাফসীর হল: যে আল্লাহ্‌কে ডাকে ও আল্লাহ্‌র সাথে অন্যকে ডাকে এবং যে আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্যকে ডাকে ও আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে তার দিকেই মুক্ত হয়ে ধাবিত হয়।

টীকা ৫।  হাদীসের অর্থ হল: যে ব্যক্তি কোন ধরণের শিরক করল না এবং (আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে) কারো মুখাপেক্ষী হল না, না কোন ফেরেশ্‌তা আর না কোন নবী, না কোন অলী ও না কোন জ্বিনের সে জান্নাতে প্রবেশ করবে অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাকে তাঁর রহমতে ও অনুগ্রহে জান্নাতে প্রবেশের ওয়াদা দেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি শিরক করা অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাত করবে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এখানে মহা শিরক, ছোট শিরক ও গোপন শিরক সবই অন্তর্ভূক্ত। শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি কি সাময়িকভাবে না স্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকে? (কে) বড় শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি চিরকাল জাহান্নামে থাকবে। সেখান থেকে বের হবে না। (খ) আর ছোট ও গোপন শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি কিছুকাল জাহান্নামে থাকার পর বের হয়ে আসবে; কারণ সে তাওহীদবাদী।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:

১।  শিরকের ভয়।

২।  রিয়া বা প্রদর্শনেচ্ছু শিরকের অন্তর্ভূক্ত।

৩।  এটি ছোট শিরকের অন্তর্ভূক্ত।

।  নেক্‌কারদের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে বড় আশংকা।

।  জান্নাত ও জাহান্নামের নৈকট্য।

৬।  একই হাদীসে উভয়টি (জান্নাত ও জাহান্নাম) নৈকট্য সম্পর্কে আলোচনা।

৭।  যে ব্যক্তি শিরক না কর আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাৎ করবে সে জান্নাতে যাবে। আর যে ব্যক্তি শিরক করে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সে যত বড় আবেদই হোক না কেন।

।  গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইবরাহীম (আ:) নিজের জন্য ও বংশধরদের জন্য মূর্তিপূজা থেকে মুক্তি লাভের জন্য দু’আ করেন।

৯।  অধিকাংশ লোকের অবস্থা এরূপ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضّللْنَ كَثِيرً مِّنَ ألنَّاسِ

১০। এতে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু” এর তাফসীর রয়েছেন।

১১।  শিরক থেকে মুক্ত ব্যক্তির ফযীলত।

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s