বৃষ্টিভেজা কান্না (ছোটগল্প)

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

জুবায়ের হুসাইন

সাঁই করে একটা শব্দ হলো। কানের ওপরের চুলগুলো কেমন একটু নড়ে উঠল। কিছুটা বাতাস ওর ঘাড়ের খোলা জায়গাটিতেও লাগল। ফুলপ্যান্টের নিচটাও দুলে উঠল।
পাই করে বামে তাকাল। একটা সাদা মাইক্রো তীরবেগে ছুটে যাচ্ছে। বেশ বড়সড় মাইক্রোটা। আরেকটু হলেই ওর গায়ের উপর দিয়ে চলে যেত যন্ত্রদানবটা। কিন্তু কোত্থেকে উদয় হলো হঠাৎ ওটা? ও তো ভালো করে দেখেই তবে রাস্তা পার হচ্ছিল।

আসলে ওর নজর ছিল রোড ডিভাইডারের ওপাশের গাড়িগুলোর ওপর। এপাশে তখন কোনো যান ছিল না। তাই এপাশে বেশি গুরুত্ব দেয়নি। ওপাশে ট্রাফিক সিগনাল পেয়ে গাড়িগুলো থেমে যেতেই ও পা বাড়িয়েছিল রাস্তা পার হওয়ার জন্য। রোড ডিভাইডারের ওখানে চলে এসেছিল ও। এই সময় পেছন দিয়ে চলে যায় মাইক্রোটা।

নাহ্, বুকের মধ্যে সামান্যতম ‘ছ্যাঁৎ’ করেও উঠল না। আসলে প্রচণ্ড গরমে ওর এখন কাহিল অবস্থা। সারা শরীর ঘেমে নেয়ে গেছে। শার্টের ভেতরের গেঞ্জি ভিজে শার্টেও গায়ের নোনা ঘাম লেগে গেছে। বরং মাইক্রোটা বাতাস উড়িয়ে ছুটে যাওয়াতে প্রশান্তির একপশলা ছোয়া ওর সমস্ত দেহে ছড়িয়ে পড়ল।
দরদর করে ঘামছে ও।
রাস্তা পার হয়ে ফুটপাতে উঠে পড়ল ছেলেটা। রঙিন একটা ছাতা টাঙিয়ে মোবাইলে ব্যালেন্স রিসার্চের জন্য বসে আছে এক যুবক, একটা টেবিল ও একটা চেয়ার নিয়ে। কোনোরকম ওই ছাতার ছায়ায় দাঁড়াল ছেলেটি। এমন ভান করল যেন মোবাইলে টাকা ঢোকাবে।

আসলে ওর এক বন্ধুর দেখা করার কথা এখানে ওর সাথে। এপাশ ওপাশ দেখে বন্ধুকে না দেখে পকেট থেকে সিম্ফোনি C101 মোবাইল সেটটা বের করল। ডায়াল বাটন টিপে নাম্বারটা বের করে কল করল। দু’বার রিং হতেই ওপাশ থেকে সাড়া মিলল।
‘কই তুমি?’ জিজ্ঞেস করল ও।
ওপাশে কথা শুনে আবারও বলল, ‘আমি তো খানা বাসমতির সামনে। … তুমি দৈনিক বাংলায়? আচ্ছা ঠিক আছে, তাড়াতাড়ি আস।’
কল অফ করে হাতেই রাখল সেটটা।
দুই মিনিট পর বন্ধু পৌঁছল।

‘সরি দোস্ত,’ বলল ও বন্ধু। ‘একটু দেরি হয়ে গেল। আসলে যা গরম পড়েছে!’
‘আরে গরমের চেয়ে আরও গরম খবর, বড় বাঁচা বেঁচে গেছি আজ।’
‘মানে?’
‘মানে রাস্তার পিচের সাথে মিশে যাওয়া থেকে রেহাই পেয়েছি, অল্প একটুর জন্যে।’
‘এই এই খুলে বল কী হয়েছে।’
‘আমার যে গলা শুকিয়ে গেছে। আগে চল ঠাণ্ডা কিছু খাই, খেতে খেতেই সব বলছি।’
‘হু চল।’

খানা বাসমতি হোটেলে ঢোকার মুখে দু’পাশে কাবাব রোস্ট করার জন্য চুলা ধরানো হয়েছে। তার তাপ লাগল ওদের গায়ে। তবে ঢোকার মুহূর্তে মাথার উপরে লাগানো ফ্যানের বাতাসের কারণে তাপটা ততটা জোরালো হলো না।
খালি দেখে একটা টেবিলে গিয়ে বসল ওরা। বেয়ারা এসে জানতে চাইল কী দেবে। আগে দু’গেলাস ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি দিতে বলল ওরা। পানি এলো।
‘বল কী খাবি।’ জিজ্ঞেস করল বন্ধু।
‘হ্যাঁ বলছি। তুই-ই যখন খাওয়াবি তখন…’
ওর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলল বন্ধু, ‘আমিই খাওয়াবো মানে?’
‘মানে আবার কী? আ’য়্যাম হার্ড আপ নাও। সো দোস্ত মিরাজ, ইউ…’
‘থাক থাক আর বলতে হবে না। তো মাহি দোস্ত, কী খাবেন এবার বলে এই অধমকে উদ্ধার করেন।’
‘সত্যিই খাওয়াবি?’ বলল মাহি।
‘হু, আজকে আমার পকেটটা ফুলে আছে।’ হাত দিয়ে প্যান্টের পেছন পকেটের মানিব্যাগের দিকে ইশারা করল মিরাজ।
‘কোথায় পেলি টাকা?’

‘সেটা তো বড় কথা নয়, কী খাবি বেয়ারাকে বলে তোর জানে বেঁচে যাওয়ার ঘটনাটা বল। শোনার জন্য আমার মনটা আকুপাকু করছে।’
‘ও!’ ফাটা বেলুনের মতো কেমন যেন চুপসে গেল মাহি। তারপর গেলাসের বাকি পানিটুকু ঢকঢক করে গলা দিয়ে পেটে চালান দিয়ে কিছুক্ষণ আগের অ্যাক্সিডেন্টের হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার ঘটনাটা বলল।

শুনে তো হতভম্ব হয়ে গেল মিরাজ। তাই শোনার পরেও বেশ কয়েকটা মুহূর্ত কিছুই বলতে পারল না। শেষে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ‘সত্যিই বড় বাঁচা বেঁচেছিস। কিন্তু তুই তো অমন অ্যাবসেন্স মাইন্ডেড থাকিস না কখনও। আসলে কী হয়েছে একটু খুলে বলতো?’
কিছুক্ষণ আমতা আমতা করেও শেষে বলল মাহি ওর অ্যাবসেন্স মাইন্ডেড থাকার কারণটা। বলল, ‘তুই তো জানিস, মাসের শেষের দিকে আমার হাতে টাকাপয়সা একদমই থাকে না। মেসে দুই মাসের ভাড়া বাকি হয়ে গেছে। এই মাসে মিল খরচের এক পয়সাও জমা দিতে পারিনি। যে দু’টো টিউশনি করি, ওদের কাছে ফোন করলাম যদি ওরা ওদের আব্বা-আম্মাকে বলে এ মাসের বেতনটা আগাম দিতে পারে কিনা। কিন্তু কেউই রাজি করাতে পারল না। এদিকে সকালে মেস থেকে বেরোনোর সময় ম্যানেজার বলেই দিয়েছে রাতেই অন্তত এক মাসের ভাড়া ও মিল বাবদ কিছু টাকা জমা দিতেই হবে। কোথায় পাব টাকা, কার কাছে হাত পাতব, এসব ভাবতে ভাবতেই মনটা কেমন এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। আর তাতেই…’

‘আচ্ছা মাহি, তুই এমন কেন বলতো?’ জিজ্ঞেস করল মিরাজ।
‘আমি কেমন?’
‘তোকে না বলেছি যখন যে সমস্যা হবে আমাকে জানাবি। তোর টাকা লাগবে তা তো আমাকে বলতে পারতিস। মোবাইলে শুধু বললেই তো আমি তোর মেসে গিয়ে টাকাটা দিয়ে আসতাম।’
‘তুই আর কত দিবি বল্? জমতে জমতে তো অনেক হয়ে গেছে। কবে কিভাবে শোধ দেব তা জানি না।’
‘খবরদার খবরদার মাহি, এই সব কথা আর মুখেও কখনও আনবি না। আরে বাবা, একটা ভালো চাকরি পেয়ে তারপর ধীরে ধীরে আমার টাকা শোধ দিবি। আর শোধ যে দিতেই হবে, এমন কথা কি তোকে বলেছি কখনও?’
‘কিন্তু তাই বলে…’

দু’জনের সামনেই বাটিতে ফালুদা একইভাবে পড়ে আছে। চামচ দিয়ে কেবল নেড়েই চলেছে। কেউই এতটুকু মুখে দেয়নি।
মিরাজ বলল, ‘নে, এবার খেয়ে নে।’
কিছুক্ষণ নীরবে খেল ওরা।
নীরবতা ভাঙল মিরাজই। বলল, ‘পড়ালেখা কেমন হচ্ছে তোর?’
মাহি বলল, ‘নারে, কিছুতেই মন বসাতে পারিনে। যখনই পড়তে বসি, তখনই মাথায় দুনিয়ার চিন্তা এসে হাজির হয়।’
‘কিসের এতো চিন্তা তোর?’
লম্বা করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল মাহি। বলল, ‘জীবনটা বড় কঠিনরে মিরাজ!’

‘এই, এই মাহি, হঠাৎ দার্শনিক হয়ে গেলি দেখছি। তুই সবসময় এতো হতাশার কথা বলিস কেন? এসব শুনতে আমার একদম ভালো লাগে না।’
‘আসলে তোর তো জীবন নিয়ে কিছুই ভাবতে হয় না। ভালোই তো আছিস। দিব্বি বাপের টাকায় ঢাকা শহরে আরামে কাটিয়ে দিচ্ছিস। লেখপড়া শিখে চাকরি একটা করতেই হবে, তাও না। বাপের বিজনেস দেখাশোনা করলেই চলে যাবে। আর আমার..’ আবারও দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল মাহি।
‘নারে মাহি, আব্বুর বিজনেসে আমার ইচ্ছে নেই। আমার ইচ্ছে নিজেই একটা কিছু করার। মাস্টার্সটা শেষ করে আব্বুর কাছ থেকে লাখ পাঁচেক টাকা নিয়ে আমি নিজেই একটা বিজনেস শুরু করব ভাবছি। কী বিজনেস করব তাও ভেবে রেখেছি- ল্যান্ডের বিজনেস। এটা এখন বেশ লোভনীয়। যে হারে জমির দাম বাড়ছে, আজ একটা প্লট কিনে দশ দিন পরে বিক্রি করলেও প্রায় ডবল লাভ। ..তুই কিছু ভাবিস না, তোকে আমার পার্টনার করে নেব। দু’জন মিলে বিজনেসটা করলে দেখিস, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা অনেক টাকার মালিক হয়ে যাব। কী, থাকবি তো আমার সাথে?’ কথাগুলো বলে মাহির দিকে তাকাল মিরাজ।

মিরাজ তখন অন্য জগতে হারিয়ে গেছে। কী যেন ভেবে চলেছে। শূন্য দৃষ্টিতে বাটির ফালুদা’র দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু দৃষ্টি কোথায় চলে গেছে কে জানে।
‘এই মাহি, কী ভাবছিস?’
কোনো সাড়া নেই মাহির।
আবারও ডাকল মিরাজ, ‘এই মাহি, কী ভাবছিস অমন করে?’ ওর বাহু ধরে ঝাকি দিল।
সম্বিৎ ফিরে পেল যেন মাহি। বলল, ‘উঁ, না, কিছু না।’
‘খাচ্ছিস না কেন?’

‘এই, এই তো খাচ্ছি।’ চামচে করে কিছুটা ফালুদা মুখে পুরল মাহি। তারপর আবার বলল, ‘আচ্ছা মিরাজ, তোর কি জানা আছে এদেশে এমন কতজন আছে যাদের দিনরাত প্রায় চব্বিশ ঘণ্টায় কেবল ভাবতে হয়ে রাত পোহালেই যে দিনটা আসবে, সেই দিনটার আহার সে কিভাবে জোগাড় করবে?’
‘দূর! এটা কি বলা সম্ভব?’
‘এই ঢাকা শহরে কতজন আছে? আনুমানিক একটা পারসেন্টেজ বল।’

‘নারে, আমি বলতে পারব না। তুই কি…’ হঠাৎ থেমে গেল মিরাজ, ‘মাহি! হঠাৎ এই চিন্তা তোর মাথায় এলো কেন বলতো? এই দোস্ত, তোর শরীর খারাপ করেনি তো?’ মিরাজ ওর কপালে গায়ে হাত দিয়ে গায়ের উত্তাপ বোঝার চেষ্টা করল। ‘এ কী রে? তোর গা তো সত্যিই গরম!’
‘আরে না, ওরকম গরম আমার শরীর সবসময়ই থাকে।’
‘তাহলে ওরকম উল্টোপাল্টা প্রশ্ন কেন করছিস বল?’
‘এমনি।’ হাসতে হাসতে বলল মাহি। পরিবেশটা হালকা করতে চাইল।

‘বাব্বাহ!’ স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ছাড়ল মিরাজ। ‘বাঁচালি আমারে। তুই তো আমারে চিন্তায়ই ফেলে দিয়েছিলি। আসলে তুই মাঝে মাঝে এমন সব উদ্ভট উদ্ভট কথা বলিস না, আমি কোনো কূলকিনারা পাই না।’
‘কিন্তু বিষয়গুলো নিয়ে ভাববার অনেক কিছু আছে।’

‘তা থাকুক। ওসব যাদের ভাববার তারা ভাবুকগে। শোন্, আমি তোকে কিছু টাকা দিচ্ছি, এই টাকাটা দিয়ে তুই মেসের ভাড়া শোধ করবি আর মিলের খরচ দিবি। আর শোন্, তোর শার্টটা বেশ পুরনো হয়ে গেছে। চল, তোকে একটা শার্ট কিনে দেব।’ বলে উঠতে চাইল মিরাজ।
‘আরে বোস বোস।’ মিরাজকে থামিয়ে দিয়ে বলল মাহি। ‘তোকে অত কিছু করতে হবে না। টাকা আমি ম্যানেজ করে ফেলব আজ রাতের মধ্যেই।’
‘কোথা থেকে ম্যানেজ করবি?’
‘ও হয়ে যাবে এক ভাবে।’ বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইল মাহি।
‘কিন্তু…’
‘কোনো কিন্তু নয় মিরাজ। চল উঠি। আমাকে আবার একটু খিলক্ষেত যেতে হবে। একজনের সাথে দেখা করতে হবে। ওর কাছে কিছু টাকা পাই, আজ দেবে বলেছে।’ উঠে দাঁড়াল মাহি।
উঠে দাঁড়াল মিরাজও। বলল, ‘ওখানে কে থাকে?’
‘ও তুই চিনবি না।’
‘ও। ঠিক আছে, তাহলে চল শার্টটা কিনি।’
‘নারে দোস্ত, ওর কাছে যে টাকা পাই, তাতে মেসের টাকা শোধ করে একটা শার্টও কেনা যাবে।’
‘চল, তোর সাথে আমিও যাব।’
‘তোকে আর কষ্ট করতে হবে না। যা গরম পড়েছে, তুই বরং রুমে গিয়ে রেস্ট নে। আমি পরে তোকে ফোন দেব।’
‘আচ্ছা ঠিক আছে। তবে কোনো সমস্যা হলে আমাকে জানাতে ভুলিস না।’
মিরাজ হোটেলের বিল মিটিয়ে মাহির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল।

মাহি আবার রাস্তায় বেরিয়ে এলো। এতক্ষণ হোটেলের মধ্যে বাতাসের নিচে থাকাতে শরীরটা বেশ আরাম বোধ করছিল। এক্ষণে আবার ঘামতে লাগল। আসলে খিলক্ষেতে ওর কেউ থাকে না, আর সেখানে যাবেও না ও। মিরাজের কাছ থেকে সরে যাওয়ার জন্যই কথাটা বলেছে ও। ওভাবে কথাটা বলতেও চায়নি, কিভাবে যেন অবলিলায় বলে ফেলেছে, এখন নিজেও বিশ্বাস করতে পারছে না। একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে, ভাবল ও। আর কত? অনেক সহযোগিতাই তো নিয়েছে ওর কাছ থেকে। দেনা আর বাড়িয়ে লাভ কী? বিষয়টার এখানেই ইতি টানা দরকার।
কিন্তু মেসের টাকা আজ রাতের মধ্যে কিভাবে কোথা থেকে ম্যানেজ করবে ও?
ফুটপাত ধরে হেঁটে চলল মাহি। প্রচণ্ড গরমে হাঁটতে বেশ কষ্ট হচ্ছে, তারপরও হাঁটছে। কোথায় যাচ্ছে তা জানে না। শুধু জানে, এভাবে হাঁটতে হবে। তবে এভাবে হেঁটে কী হবে তাও জানা নেই।
ভীষণ কান্না পাচ্ছে মাহির। চোখ ফেটে লোনা পানি বের হয়ে আসতে চাইছে। বহু কষ্টে ওগুলো আটকে রেখেছে।

মাহি ওর বাবা-মায়ের চতুর্থ সন্তান। দরিদ্র পিতা দিনমজুরির কাজ করে সংসার চালান। মাহিকে ঢাকায় পড়তে আসতে দিতে চাননি ওর মা। মাহিও চায়নি। বাবায় জোর করে পাঠিয়েছেন। মাসে মাসে কিছু টাকাও পাঠান। সেটা ভার্সিটির বিভিন্ন কাজেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বাবাকে বেশি টাকার জন্য বলতে পারে না। মাঝে একবার চলেও যেতে চেয়েছিল ঢাকা থেকে। কিন্তু পাছে বাবার স্বপ্ন ভেঙে যায়, সেজন্য তা করেনি। ওকে নিয়ে মা-বাবার অনেক স্বপ্ন- সে স্বপ্নকে ও শেষ করে দিতে পারে না। তাই নিজে দুইটা টিউশনি করে কোনো রকমে কাটিয়ে দেয়। কিন্তু গত মাসে ভার্সিটির পরীক্ষার ফি জমা দিতে গিয়েই ও পড়ে যায় বেকায়দায়।

আকাশটা হঠাৎ কেমন কালো হয়ে এলো। চারদিকে বেশ অন্ধকার অন্ধকার একটা ভাব। একটু পর গুড়ুম গুড়ুম করে কয়েকবার মেঘ ডাকল। বোঝা যাচ্ছে বৃষ্টি নামবে।
মনে মনে একটু আনন্দিত হলো মাহি। যাক, ওর দুঃখটা অন্তত আকাশের ওই মেঘগুলো বুঝতে পেরেছে। আকাশ তো অনেক উদার। তাই ওর মন খারাপের খবর জেনে আকাশেরও মন খারাপ করেছে। অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরিয়ে সেই মন খারাপের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।
সত্যিই একটু পর ঝম ঝম করে বৃষ্টি নামল। মাহি কোথাও দাঁড়াল না বৃষ্টি হাত থেকে বাঁচতে। ও একইভাবে হাঁটছে। বরং ফুটপাত ছেড়ে কালো পিচের রাস্তায় নেমে এলো। রাস্তা থেকে সাদা ধোয়ার মতো উঠছে।

এই মুহূর্তে রাস্তায় যান চলাচলও বেশ কম।
ভিজতে ভিজতে রমনা পার্কে চলে এসেছে মাহি। এখানেও কিছু লোক ভিজছে। ভিজছে কয়েক জোড়া ছেলেমেয়েও গায়ে গা জড়িয়ে। দেখে কিছুটা খারাপই লাগল ওর। একটা সভ্য মুসলিম দেশে এটা শোভা পায় না। অতি সম্প্রতি পাশের একটি দেশ থেকে চুক্তি করে আমদানি করা সংস্কৃতিরই টাটকা ফল, ভাবল ও।

ওদিক থেকে চোখ সরিয়ে ফাঁকা একটা বেঞ্চ দেখে তাতে শুয়ে পড়ল চিত হয়ে। পকেট থেকে রুমালটা বের করে চোখ ও কান ঢেকে নিল।
কাঁদছে আকাশ, কাঁদছে মাহি। দু’জনের চোখের পানি একে অপরের সাথে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s