সূরা হা মীম আস্-সাজদাহ্: ৩০ থেকে ৩৩ আয়াত

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

Written by এ.কে.এম নাজির আহমদ

 اَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ .

১। আয়া:

إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ﴿٣٠﴾

نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ ۖ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ ﴿٣١﴾

نُزُلًا مِّنْ غَفُورٍ رَّحِيمٍ ﴿٣٢﴾

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿٣٣﴾

২। ভাবানুবাদ:

৩০. যেসব লোক বলে: ‘আল্লাহ্ আমাদের রব’ এবং এ কথার ওপর অটল থাকে, নিশ্চয়ই তাদের প্রতি ফেরেশতা নাযিল হয়, যারা বলতে থাকে, ‘ভয় পেয়ো না, চিন্তাক্লিষ্ট হয়ো না, আর সেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়ে সন্তুষ্ট হও তোমাদের জন্য যার ওয়াদা করা হয়েছে’।

৩১. আমরা এই দুনিয়ার জীবনে তোমাদের সংগী-সাথী, আখিরাতেও। সেখানে তোমরা যা আকাংখা করবে, তা তোমাদের হবে, সেখানে তোমরা যা চাইবে তা-ই পাবে।

৩২. এ হচ্ছে ক্ষমাশীল মেহেরবান সত্তার পক্ষ থেকে মেহমানদারীর আয়োজন।

৩৩. ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে, যে লোকদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকে এবং নিজে আল-‘আমালুছ্ ছালিহ্ করে এবং বলে: ‘নিশ্চয়ই আমি মুসলমানদের মধ্য থেকে একজন’।

৩। রিপ্রক্ষি:

4ঈসায়ী ৬১০ সনে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়াত লাভ করেন।

4প্রথম তিনটি বছর তিনি নিরবে আদ্-দা‘ওয়াতু ইলাল্লাহ্-এর কাজ করেন।

4অতঃপর তিনি সরবে আদ্-দা‘ওয়াতু ইলাল্লাহ্-এর কাজ শুরু করেন।

4কিছু সংখ্যক সত্য সন্ধানী এবং সাহসী যুবক-যুবতী তাঁর আহ্বানে সাড়া দেন।

4আবু জাহল আমর ইবনুল হিশাম, উতবা ইবনুল রাবী‘য়া, শাইবা ইবনুল রাবী‘য়া, আল ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরা, উমাইয়া ইবনুল খলফ, ‘আস ইবনুল ওয়াইল প্রমুখ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি তাঁর আহ্বান কবুল করেনি।

ফলে, সাধারণ জনতা ইসলাম গ্রহণ করার সাহস পায়নি।

4ইসলাম-বিদ্বেষিরা বিরোধিতা শুরু করে।

প্রথমে ঠাট্টা-বিদ্রূপ, অতঃপর গালমন্দ, অতঃপর হুমকি-ধমকি, অতঃপর অপপ্রচার এবং শেষাবধি দৈহিক নির্যাতন করে ইসলামের আলো নিভিয়ে দিতে চায় দুশমনেরা।

মুমিন গণ কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন।

[উসমান ইবনুল আফফান (রা), তালহা ইবনুল উবাইদুল্লাহ্ (রা), বিলাল ইবনুল রাবাহ (রা), আবু ফাকীহা (রা), ইয়াসির (রা), সুমাইয়া বিনতু খুব্বাত (রা), উম্মু শুরাইক (রা), লুবাইনা (রা), খাব্বাব ইবনুল আরাত (রা) প্রমুখ দৈহিক ভাবে নির্যাতিত হন।]

4ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য ঘরদোর, বাগ-বাগিচা, পশু-পাল, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি পেছনে ফেলে একদল মুমিন হাবশায় হিজরাত করেন।

4উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) তখনো ইসলাম গ্রহণ করেন নি। হামজা ইবনু আবদিল মুত্তালিব (রা) তখন ইসলাম গ্রহণ করে ছিলেন।

4উতবা ইবনু রাবী‘য়ার অবান্তর প্রস্তাব-

একদিন কা‘বার চত্বরে একদিকে বসা ছিলেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), অপর দিকে বসা ছিল মুশরিক নেতাগণ।

অন্যতম মুশরিক নেতা উতবা ইবনুল রাবীয়া বললো, ‘তোমরা একমত হলে, আমি মুহাম্মাদরে কাছে কতগুলো প্রস্তাব রাখতে চাই। তারা তার সাথে একমত হলে উতবা ইবনুল রাবীয়া মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে এসে বসলো এবং ইসলাম প্রচার ত্যাগের শর্তে, নিম্নের প্রস্তাব গুলো পেশ করলো:

“ভাতিজা, তুমি যে কাজ শুরু করেছো, তার উদ্দেশ্য যদি হয় অর্থ-সম্পদ লাভ, তাহলে আমরা তোমাকে এত অর্থ-সম্পদ দেবো, যে তুমি হবে সবার চেয়ে বেশি ধনী। তুমি যদি শ্রেষ্ঠত্ব চাও, আমরা তোমাকে আমাদের নেতা বানিয়ে নেবো। তুমি যদি রাজা হতে চাও, আমরা তোমাকে আমাদের রাজা বানাবো। কিন্তু….।” উতবা ইবনুল রাবীয়ার অবান্তর বক্তব্যের জওয়াবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরা হা মীম আস্-সাজদাহ্ পড়া শুরু করেন এবং ৩৮ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়ে সিজদাহ করেন।

এই ঘটনাটি ঘটে ছিল নবুওয়াতের পঞ্চম সনে।

এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, নবুওয়াতের পঞ্চম সনের কোন এক সময় এ সূরাটি নাযিল হয়।

এ সূরাতে-

(১) ইসলাম-বিরোধীদের বিভিন্ন অযৌক্তিক প্রচারণার জওয়াব দেওয়া হয়েছে।

(২) মুমিনদের উপর যুলুম নির্যাতন চালানোর কারনে, ইসলাম-বিরোধীদেরকে আযাবের ভয় দেখানো হয়েছে।

[হূদ (আ) এর কাওম বানু ‘আদ এবং ছালিহ্ (আ)-এর কাওম বানু সামূদের উপর নাযিলকৃত আযাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।]

(৩) নির্যাতিত মুমিনদেরকে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে।

(৪) আর মুমিনদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সর্বোৎকৃষ্ট মানুষ তো তারা, যারা সর্বাবস্থায় আল ‘আমালুছ ছালিহ করে, লোকদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকে, এবং দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করে: অবশ্যই আমি মুসলমানদের মধ্য থেকে একজন।

৪। ব্যাখ্যা:

4 قَالُوْا رَبُّنَا اللهُ.

অর্থ: ‘তারা বলে: আল্লাহ্ আমাদের রব।’

‘রব’ মানে প্রভু, মুনীব, প্রতিপালক, তত্ত্বাবধায়ক, ক্ষমতাশালী-প্রতাপশালী-র্কতৃত্বশীল সত্তা ইত্যাদি।

“আল্লাহ্ আমাদের রব”-এই ঘোষণা দেওয়ার মানে হচ্ছে, আল্লাহকে “প্রভু” বলে মেনে নেওয়া, এবং নিজেরা তাঁর “আবদ” রূপে তাঁর প্রতি আনুগত্যশীল জীবন যাপনের সংকল্প ব্যক্ত করা।

“আল্লাহ্ আমাদের রব”-এই ঘোষণা দেওয়ার মানে হচ্ছে, আল্লাহকে “মুনীব” বলে মেনে নেওয়া এবং নিজেদের চিন্তা-চেতনাকে আল্লাহ মুখী করা ও কর্ম ধারাকে আল্লাহ মুখী করা।

“আল্লাহ্ আমাদের রব”-এই ঘোষণা দেওয়ার মানে হচ্ছে, আল্লাহকে “প্রতিপালক” বলে বিশ্বাস করা এবং তাঁর প্রতিপালন ব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল হওয়া।

“আল্লাহ্ আমাদের রব”-এই ঘোষণা দেওয়ার মানে হচ্ছে, আল্লাহকে “তত্ত্বাবধায়ক” বলে মানা এবং তাঁর তত্ত্বাবধান ব্যবস্থার অধীনে আছি বলে, বিশ্বাস রাখা।

“আল্লাহ আমাদের রব”-এই ঘোষণা দেওয়ার মানে হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহকে “ক্ষমতাশালী-প্রতাপশালী- কর্তৃত্বশীল” সত্তা রূপে গ্রহণ করে তাঁর প্রতি আত্মসমর্পনী হওয়া।

“আল্লাহ আমাদের রব”-এই ঘোষণা দেওয়ার মানে হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহর বড়ত্ব-শ্রেষ্ঠত্ব (সার্বভৌমত্ব) প্রকাশ ও প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করা। কারণ, তাঁর নির্দেশ হচ্ছে- “ওয়া রাব্বাকা ফাকাব্বির।”

4 ثُمَّ اسْتَقَامُوْا.

র্অথ: ‘অতপর ইসতিক্বামাত করা।’

[র্অথাৎ দৃঢ়তা-অটলতা-অবিচলতা অবলম্বন করা।]

(১) আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “বহু মানুষ আল্লাহকে তাদের রব বলে ঘোষণা করে, কিন্তু অধিকাংশ আবার কাফের হয়ে যায়। দৃঢ়পদ সেই ব্যক্তি যে মৃত্যু পর্যন্ত এই আক্বীদা আঁকড়ে ধরে থাকে।”

[আনাস ইবনু মালিক (রা), সুনানু আন্-নাসায়ী, ইবনু আবী হাতিম, ইবনু জারীর।]

(২) আবু বকর আছ্ ছিদ্দিক (রা) বলেছেন, “[দৃঢ়পদ ঐ ব্যক্তিরা, যারা ঈমান আনার পর] আল্লাহর সাথে আর কাউকে শরীক করেনা, তাঁকে ছাড়া আর কোন উপাস্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়না।” [ইবনু জারীর]

(৩) উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) বলেছেন, “আল্লাহর শপথ, নিজ আক্বীদায় দৃঢ় ও স্থির তারাই, যারা দৃঢ়ভাবে আল্লাহর আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত, শিয়ালের মতো এই দিক থেকে ঐ দিক, ঐ দিক থেকে এই দিকে ছুটে বেড়ায় না।” [ইবনু জারীর]

(৪) উসমান ইবনু আফফান (রা) বলেছেন, “(দৃঢ়পদ তারা) যারা নিজের আমলকে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করে নিয়েছে।” [কাশ্ শাফ]

(৫)আলী ইবনু আবী তালিব (রা) বলেছেন, “(দৃঢ়পদ তারা, যারা) আল্লাহর নির্ধারিত ফারদ্ব গুলো একনিষ্ঠ ভাবে আদায় করছে। [কাশ্ শাফ]

(৬) দৃঢ়পদ ব্যক্তিদের সম্পর্কে এই যুগের শ্রেষ্ঠ মুফাসসির সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ) বলেছেন, “(অর্থাৎ) হঠাৎ কখনো রব বলে ঘোষণা করে থেমে যায়নি এবং এমন ভ্রান্তিতেও লিপ্ত হয়নি যে, আল্লাহকে তো রব বলে ঘোষণা করেছে, আবার তার সাথে অন্যদেরকেও রব বলে মেনে নিয়েছে। বরং একবার এই আক্বীদা গ্রহণ করার পর সারা জীবন এর উপর প্রতিষ্ঠিত থেকেছে। এর পরিপন্থী কোন আক্বীদা গ্রহণ করেনি কিংবা এর সাথে কোন বাতিল আক্বীদার সংমিশ্রনও ঘটায়নি এবং নিজের র্কমজীবনে তাওহীদি আক্বীদার দাবিগুলো পূরণ করেছে।”

দ্রষ্টব্য: তাফহীমুল কুরআন, সাইয়্যেদ আবুল আ‘লা মওদূদী, সূরা হামীমুস সাজদাহর তাফসীররে ৩৩ নাম্বার টীকা।

4 تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلئِكَةُ.

র্অথ : ‘তাদের প্রতি ফেরেশতা নাযিল হয়।’

ফেরেশতাগণ আল্লাহর সাম্রাজ্যের বিশ্বস্ত র্কমচারী। আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন তাঁদেরকে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রেখেছেন।

(১)একদল ফেরেশতা আল্লাহর আরশ বহন করেন।

(২)একদল ফেরেশতা পাহাড়-র্পবত তত্ত্বাবধান করেন।

(৩) একদল ফেরেশতা নদী-সাগর-মহাসাগর তত্ত্বাবধান করেন।

(৪) একদল ফেরেশতা বাতাস প্রবাহিত করেন।

(৫) একদল ফেরেশতা মেঘ পরিচালনা করেন।

(৬) একদল ফেরেশতা মানুষের তাকদীর লিপিবদ্ধ করেন।

(৭) একদল ফেরেশতা মানুষের রিযিকের ব্যবস্থা করেন।

(৮) একদল ফেরেশতা মানুষের আমলনামা লিপিবদ্ধ করেন।

(৯) একদল ফেরেশতা অবাধ্য জাতীকে শাস্তি দেন।

(১০) মালাকুল মউত (আ)-এর নেতৃত্বে একদল ফেরেশতা মানুষের রূহ কবজ করেন।

(১১) একদল ফেরেশতা মানুষের কবরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

(১২) একদল ফেরেশতা জাহান্নামের তত্ত্বাবধান করেন।

(১৩) একদল ফেরেশতা জান্নাতের তত্ত্বাবধান করেন।

(১৪) অন্যতম ফেরেশতা ইসরাফিল (আ) বিউগল হাতে নিয়ে ফুঁক দেওয়ার জন্য আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।

(১৫) জিবরাঈল (আ) নবী রাসূলদের নিকট আল্লাহর ওহী নিয়ে আসতেন। এখন তিনি লাইলাতুল ক্বদরে বহু সংখ্যক ফেরেশতা নিয়ে পৃথিবীতে নেমে আসেন।

এখানে বিশেষ এক শ্রেণীর ফেরেশতার কথা উল্লেখ করা হয়ছে।

এই ফেরেশতা গণ আল্লাহর নির্দেশে মাযলুম মুমিনদের মনে হিম্মাত, নিশ্চিন্ততা এবং প্রশান্তি সৃষ্টিতে ভূমিকা পালন করেন। আর মুমিনদেরকে অনাগত সফলতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

4 نُزُلاً مِّنْ غَفُوْرِ رَّحِيْمٍ.

র্অথ : ‘ক্ষমাশীল মেহেরবান সত্তার পক্ষ থেকে মেহমান দারীর আয়োজন।’

আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন দৃঢ়পদ মুমিনদের মেহমান দারীর জন্য জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন।

(১) জান্নাত মহাবিস্তৃত আরামদায়ক স্থান।

وَسَارِعُوْا اِلى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّموتُ وَالاَرْضُ ০

[সূরা আলে ইমরান: ১৩৩]

‘এবং দ্রুত এগিয়ে চল তোমাদের রবের মাগফিরাত এবং জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান ও পৃথিবীর প্রশস্ততার সমান।’

سَابِقُوْا اِلى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ والاَرْضِ ০

[সূরা আল হাদীদ: ২১]

‘তোমরা প্রতিযোগিতা করে দ্রুত এগিয়ে চল, তোমাদের রবের মাগফিরাত এবং জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান ও পৃথিবীর প্রশস্ততার সমান।’

একজন কম র্মযাদাবান জান্নাতীও পাবেন বর্তমান পৃথিবীর দশ গুণ বড় স্থান।

(২) জান্নাত অগণিত, অফুরন্ত, নিয়ামতে পরিপূর্ন স্থান।

لَهُمْ مَا يَشَائُوْنَ فِيْهَا وَلَدَيْنَا مَزِيْدٌ ০

[সূরা ক্বা-ফ: ৩৫]

‘সেখানে তারা যা চাইবে, তা-ই পাবে। আর আমার কাছে আরো বহু কিছু রয়েছে তাদের জন্য।

اَعَدَدْتُ لِعِبَادِىَ الصَّالِحِيْنَ مَا لاَ عَيْنٌ رَأَتْ وَلاَ اُذُنٌ سَمِعَتْ وَلاَ خَطَرَ عَلى قَلْبِ بَشَرٍ ০

[ছহীহ আল-বুখারী]

আল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার ছালিহ বান্দাদের জন্য এমন সব নিয়ামত মওজুদ করে রেখেছি, যা কোন চোখ কখনো দেখেনি। যার কথা কোন কান কখনো শুনেনি এবং যার ধারণা কোন হৃদয়ে কখনো উদিত হয়নি।

(৩) জান্নাতের জীবন অনন্ত জীবন।

পৃথিবীর জীবন রোগ-শোকযুক্ত জীবন।

পৃথিবীর জীবন অভাব-অনটন যুক্ত জীবন।

পৃথিবীর জীবন ক্ষয়যুক্ত জীবন।

পৃথিবীর জীবন মৃত্যু যুক্ত জীবন।

পক্ষান্তরে, জান্নাতের জীবন রোগ-শোক মুক্ত জীবন।

জান্নাতের জীবন অভাব-অনটন মুক্ত জীবন।

জান্নাতের জীবন ক্ষয় মুক্ত জীবন।

জান্নাতের জীবন মৃত্যু মুক্ত জীবন।

উল্লেখ্য যে, অনন্ত জীবন এবং অক্ষয় সাম্রাজ্য লাভের আকাংখা মানুষের মনের গভীরে প্রোত্থিত দু’টি প্রধান আকাংখা।

এই দু’টি আকাংখাকে উসকে দিয়ে ইবলীস আদম (আ)কে ধোঁকা দিয়েছিলো।

সে বলেছিলো-

يَا آدَمُ هَلْ أَدُلُّكَ عَلَىٰ شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَّا يَبْلَىٰ ০

[সূরা তা-হা: ১২০]

“হে আদম, আমি কি তোমাকে এমন গাছের সন্ধান দেবো? যার ফল খেলে তুমি অনন্ত জীবন ও অক্ষয় সাম্রাজ্য লাভ করবে।”

কিন্তু পৃথিবীর জীবনে মানুষের এ দু’টি আকাংখা পূর্ণ হবার নয়। এ দু’টি আকাংখা পূর্ণ হবার স্থান জান্নাত।

4 وَمَنْ اَحْسَنَ قَوْلاً مِّمَّنْ دَعَا اِلَى اللهِ.

অর্থ: “ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে উত্তম কথা, কাহার হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে।”

প্রতিদিন আমরা অসংখ্য কথা বলে থাকি। যে কথাগুলো বলে আমরা মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকি সেই কথা গুলোকেই সর্বোত্তম কথা বলে আল্লাহ্ সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। অর্থাৎ এ কথা বলাতেই যেন আমরা ব্যস্ত থাকি সে ব্যাপারে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

আবার আদ্-দা‘ওয়াতু ইলাল্লাহ-র (ক) কর্ম-কৌশল, (খ) দা‘ওয়াত প্রদানের কাংখিত মান এবং (গ) পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন আল কুরআনে নিম্নরূপ ধারণা ব্যক্ত করেছেন:

اُدْعُ اِلى سَبِيْلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِىْ هِىَ اَحْسَنُ ط اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيْلِه وَهُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِيْنَ ০

[আন-নাহল: ১২৫]

“তোমার রবের পথে লোকদেরকে ডাক বিজ্ঞতা সহকারে, সুন্দর বক্তব্যের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে যুক্তি-র্তক কর অতীব উন্নত মানের। অবশ্যই তোমার রব ভালো করেই জানেন কে তাঁর পথ থেকে সরে গেছে এবং তিনি জানেন, কে সঠিক পথ প্রাপ্ত।”

وَمَا عَلَى الرَّ سُوْلِ اِلاَّ الْبَلغُ الْمُبِيْنُ ০

[সূরা আন্ নূর: ৫৪, আল ‘আনকাবূত: ১৮]

‘আর সুস্পষ্ট ভাবে আমার পয়গাম (লোকদের কাছে) পৌঁছিয়ে দেওয়াই রাসূলের র্কতব্য।’

اِنَّكَ لاَ تَهْدِىْ مَنْ اَحْبَبْتَ وَلكِنَّ اللهَ يَهْدِىْ مَنْ يَّشَاءُ ج وَهُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِيْنَ ০

[সূরা আল ক্বাসাস: ৫৬]

‘তুমি যাকে চাও, তাকেই হিদায়াত করতে পার না। আল্লাহ্ যাকে চান, তাকেই হিদায়াত করেন। আর তিনি হিদায়াত প্রাপ্তদেরকে ভালো করেই জানেন।’

اِنْ تَحْرِصْ عَلى هُدهُمْ فَاِنَّ اللهَ لاَ يَهْدِىْ مَنْ يُّضِلُّ وَمَا لَهُمْ مِّنْ نّصِرِيْنَ ০

[সূরা আন্ নাহল: ৩৭]

‘তুমি তাদের হিদায়াতের জন্য যতই লালায়িত হওনা কেনো, আল্লাহ্ যাদেরকে গোমরাহ্ করে দিয়েছেন, তাদেরকে হিদায়াত দেন না। আর এ ধরনের লোকদেরকে কেউ সাহায্য করতে পারে না।

41 وَعَمِلَ صَالِحًا.

র্অথ : ‘এবং আল ‘আমালুছ ছালহি করে’

এই কথাটির মাধ্যমে আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন সূক্ষ্মভাবে আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, দা‘য়ী ইলাল্লাহর মুখের কথা ও কাজে বৈপরিত্য থাকতে পারে না।

প্রশ্নবিদ্ধ চরিত্র, প্রশ্নবিদ্ধ লেনদেন এবং প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ মুখে উচ্চারিত সুন্দর কথা গুলোর প্রভাব বিনষ্ট করে দেয়।

41 وَقَالَ اِنَّنِىْ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ.

র্অথ : ‘এবং বলে: অবশ্যই আমি মুসলমানদের মধ্য থেকে একজন।’

এ কথাটির মাধ্যমে আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন বুঝাতে চাচ্ছেন যে, পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূল হোক কিংবা প্রতিকূল, প্রকৃত মুমিনকে সর্বাবস্থায় তার মুসলিম আইডেন্টিটি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।

৫। শিক্ষা:

আল্লাহকে নিজেদের রব বলে ঘোষণা দিয়ে যারা নিজেদের চিন্তা ও র্কমে তার প্রতিফলন ঘটায়, বিশেষ করে ‘আদ্ দা‘ওয়াতু ইলাল্লাহ্’-এর কাজে আত্মনিয়োগ করে এবং প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মুসলিম আইডেন্টিটি নিয়ে মাথা উচুঁ করে দাঁড়ায়, সম্মানিত ফেরেশতাগণ হন তাদের বন্ধু এবং আখিরাতে আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন তাদেরকে বিপুল ভাবে পুরস্কৃত করবেন।

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s