সূরা আল হাদীদ: ২২ ও ২৩ নং আয়াত

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

Written by এ.কে.এম. নাজির আহমদ

اَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

আয়াত

مَآ أَصَابَ مِنْ مُّصِيْبَةٍ فِى الأَرْضِ وَلاَ فِىْ أَنْفُسِكُمْ اِلاَّ فِىْ كِتَابٍ مِّنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا ج اِنَّ ذلِكَ عَلَى اللهِ يَسِيْرٌ ০ لِّكَيْلاَ تَأْسَوْا عَلى مَا فَاتَكُمْ وَلاَ تَفْرَحُوْا بِمَآ اتكُمْ ط وَاللهُ لاَيُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرٍ ০

ভাবানুবাদ

২২. ‘পৃথিবীতে এবং তোমাদের ব্যক্তি সত্তার উপর যেসব বিপদ-মুছীবাত আপতিত হয় তার একটিও এমন নয় যে, তা সংঘটিত হওয়ার পূর্বে আমি একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ করে রাখিনি। অবশ্যই এমনটি করা আল্লাহর জন্য একেবারেই সহজ।

২৩. (এসব এজন্য) যাতে কোন কিছু হারালেই তোমরা ভেঙ্গে না পড় এবং তিনি তোমাদেরকে বড় কিছু দিলে তোমরা উল্লাসে ফেটে না পড়। আল্লাহ উদ্ধত-অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না।’

পরিপ্রেক্ষিত

এ সূরাটি হিজরী ৬ষ্ঠ সনে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক হুদাইবিয়ার সন্ধির পূর্ববর্তী কোন এক সময়ে নাযিল হয়।

বদর যুদ্ধের পরাজয়, উহুদ যুদ্ধে জয় লাভ করেও আলমাদীনা মুনাওয়ারাকে তছনছ করতে না পারার আক্ষেপ এবং আল আহযাব যুদ্ধে ২৫ দিন আলমাদীনাকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর প্রচণ্ড শীত ও ধুলিঝড়ে কাবু হয়ে লজ্জাজনক পিছু হটা মাক্কার মুশরিকদেরকে ভীষণভাবে ক্ষিপ্ত করে তুলেছিলো।

তারা গোটা আরব উপদ্বীপের মুশরিকদের সাথে যোগাযোগ করে মুমিনদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে তৎপর ছিলো। কোন দিকে যাওয়া-আসা মুমিনদের জন্য মোটেই নিরাপদ ছিলো না। বলা চলে, অর্থনৈতিকভাবেও তখন মুমিনগণ অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

এ অবস্থাতেও মুমিনদেরকে অধিকতর দৃঢ়তা অবলম্বন এবং অধিকতর আর্থিক কুরবানীর তাকিদ দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন নাযিল করেন সূরা আলহাদীদ।

এ সূরার শুরুতে নিজের পরিচয় তুলে ধরে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন বলেন, ‘তিনি আল আযীয, আল হাকীম, আল কাদীর, আল আউয়াল, আল আখির, আয্ যাহির, আল বাতিন এবং আল ‘আলিম। আসমান ও পৃথিবীর সবকিছু তাঁরই কর্তৃত্বাধীন। আর জীবন মৃত্যুর চাবিকাঠিও তাঁরই হাতে।

এ সূরাতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন ইনফাক ফী সাবীলিল্লাহ-র গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিজয়ের পূর্বে অর্থ-সম্পদ দান করা যে বিজয়ের পরে দান করার চেয়ে অধিকতর মর্যাদাপূর্ণ তা ব্যক্ত করেছেন।

আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন তাঁর পথে অর্থ দানকে তাঁকে করযে হাসানা দেওয়া বলে উল্লেখ করেছেন এবং তা তিনি বহু গুণে বাড়িয়ে ফেরত দেবেন বলে জানিয়েছেন।


আল্লাহর পথে যাঁরা অকাতরে অর্থ-সম্পদ দান করেন তাঁদেরকে তিনি নূর দান করবেন যেই নূর আখিরাতে তাদের চলার পথ আলোকোজ্জ্বল করে রাখবে।

এ সূরাতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন যেই সব আহলি কিতাব দুনিয়া পূজায় লিপ্ত হয়েছে বিধায় তাদের মন পাথরের মতো কঠিন হয়ে গেছে, মুমিনগণ যেনো তাদের মতো হয়ে না যান, সেই মর্মে তাঁদেরকে সাবধান করেছেন।

এ সূরাতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন দুনিয়ার জীবনের স্বল্প পরিসর স্থায়িত্ব এবং এর সম্পদ-সম্ভারের নগণ্যতার কথা মুমিনদেরকে আবারো স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

এ সূরাতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন মুমিনদেরকে আবারো স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে মানুষের উচিত জান্নাত প্রাপ্তির জন্য প্রতিযোগিতা করা।

এ সূরাতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন আবারো জানালেন যে আল্লাহর অনুমোদন ছাড়া কারো উপর বিপদ-মুছীবাত আসতে পারে না। আর মুমিনদের উপর বিপদ-মুছীবাত আপতিত হয় তাদের প্রশিক্ষণ ও মানোন্নয়নের জন্য।

এ সূরাতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন জানালেন যে নবী-রাসূলদেরকে এমন ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে যা প্রবর্তিত হলে প্রতিটি মানুষ তার ন্যায্য অধিকার পেয়ে ধন্য হবে।

এ সূরাতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন আরো জানালেন যে যাঁরা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ঈমান এনে আল্লাহকে ভয় করে চলবেন, তিনি তাঁদেরকে এমন নূর (দূর দৃষ্টি) দান করবেন, যা তাঁদেরকে দুনিয়ার বাঁকা পথগুলো পরিহার করে সত্য-সঠিক পথে চলতে সাহায্য করবে।

ব্যাখ্যা

এ আয়াত দু’টির ব্যাখ্যায় যাওয়ার আগে আমরা মাক্কী জীবনে নাযিলকৃত সূরা আত্ তাগাবূন-এর ১১ নাম্বার আয়াতের দিকে দৃষ্টি দেব। এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন বলেন,

مَآ اَصَابَ مِنْ مُّصِيْبَةٍ اِلاَّ بِاِذْنِ اللهِ صلى وَمَنْ يُّؤْمِنْ بِاللهِ يَهْدِ قَلْبَه ج وَاللهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيْمٌ ০

“আল্লাহর অনুমোদন ছাড়া কখনো কোন মুছীবাত আসে না। যেই ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করে, আল্লাহ তার দিলকে হিদায়াত দান করেন। আর আল্লাহ সব কিছু জানেন।”

এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন যে বিপদ-মুছীবাত নিজেই আসে না। বিশ্বজাহানে এমন কোন শক্তি নেই যে নিজের ইচ্ছা মতো কারো উপর কোন বিপদ-মুছীবাত চাপিয়ে দিতে পারে। কারো উপর কোন বিপদ-মুছীবাত আসা বা না আসা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল।

যেই ব্যক্তি এ কথা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন বিশ্বজাহানের স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক, কোন বিপদ-মুছীবাত তাঁর অনুমোদনক্রমেই আসতে পারে এবং তাঁর অনুমোদনক্রমেই বিদূরিত হতে পারে, সেই ব্যক্তি তাকদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক লাভ করেন। এ বিশ্বাস তাঁকে কঠিন পরিস্থিতিতেও ছবর অবলম্বন করার শক্তি যোগায়।

তদুপরি তাঁর মনে এ ধারণা দেদীপ্যমান থাকে যে নিশ্চয়ই কোন না কোন কল্যাণ সাধনের জন্যই আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন তাঁকে এ পরীক্ষার সম্মুখীন করেছেন।

এ বিশ্বাস তাঁকে হিম্মতহারা হতে দেয় না। তাঁকে দিশাহারা হতে দেয় না। তাঁকে হতাশাগ্রস্ত হতে দেয় না।

এবার আমরা আলোচ্য দুইটি আয়াতের (অর্থাৎ সূরা আলহাদীদের-২২ ও ২৩ নাম্বার আয়াতের) দিকে দৃষ্টি দেবো।

২২ নাম্বার আয়াত

مَآ أَصَابَ مِنْ مُّصِيْبَةٍ فِى الأَرْضِ وَلاَ فِىْ أَنْفُسِكُمْ اِلاَّ فِىْ كِتَابٍ مِّنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا ج اِنَّ ذلِكَ عَلَى اللهِ يَسِيْرٌ ০

“পৃথিবীতে এবং তোমাদের ব্যক্তি সত্তার উপর যেই সব বিপদ-মুছীবাত আপতিত হয় তার একটিও এমন নয় যে তা সংঘটিত হওয়ার পূর্বে আমি একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ করে রাখিনি। অবশ্যই এমনটি করা আল্লাহর জন্য একেবারেই সহজ।”

4 এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফতী মুহাম্মাদ শফী (রাহিমাহুল্লাহ) তাফসীর মা’আরেফুল কুরআনে বলেন, ‘পৃথিবীর বিপদাপদ বলে দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, ফসলহানি, বাণিজ্যে ঘাটতি, ধনসম্পদ বিনষ্ট হওয়া, বন্ধু-বান্ধবের মৃত্যু ইত্যাদি এবং ব্যক্তিগত বিপদাপদ বলে সর্বপ্রকার রোগ-ব্যাধি, ক্ষত, আঘাত ইত্যাদি বুঝানো হয়েছে।’

4 মাওলানা শাব্বীর আহমাদ উসমানী (রাহিমাহুল্লাহ) তাফসীরে উসমানীতে বলেন, ‘দেশে যেই সাধারণ আপদ দেখা দেয়, যেমন দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প ইত্যাদি এবং স্বয়ং তোমাদের উপর যেই বিপদ আসে, যেমন রোগ-ব্যাধি ইত্যাদি, সেই সবই আল্লাহর জ্ঞানে পূর্ব থেকে সিদ্ধান্ত করা এবং তা লাওহে মাহফুযে লেখা আছে। তদনুযায়ী তা অবশ্যই দুনিয়ায় প্রকাশ পাবে। সামান্য পরিমাণও কম-বেশি বা আগ-পর হতে পারে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহর সত্তায় নিহিত রয়েছে সব কিছুর জ্ঞান। এ জন্য তাঁকে কোন কিছুই করতে হয় না। তবে তাঁর সর্বব্যাপী জ্ঞান অনুযায়ী সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই সেই সব ঘটনা লাওহে মাহফুযে সন্নিবিষ্ট করে রাখা তাঁর জন্য কিসের কষ্টকর?’

4 ইমাম আল হাসান ইবনু আলী (রা) কে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘সুবহানাল্লাহ, প্রত্যেক বিপদ-মুছীবাত যা আসমান হয়ে যমীনে আপতিত হয় তা প্রাণসমূহের সৃষ্টির পূর্বেই মহান আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং এতে সন্দেহের কী আছে?’ [তাফসীর ইবনু কাছীর।]

4 মুফাসসির ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহ তা’আলা স্বীয় ব্যাপক ক্ষমতার খবর দিচ্ছেন যে তিনি মাখলুকাত সৃষ্টি করার পূর্বেই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। তিনি বলেন, ভূ-পৃষ্ঠের যেই অংশে কোন বিপর্যয় আসে অথবা ব্যক্তিগতভাবে কারো উপর কোন বিপদ আপতিত হয়, তার এ বিশ্বাস রাখা উচিত যে ওটা হওয়া নিশ্চিতই ছিল। কেউ কেউ বলেন যে প্রাণসমূহ সৃষ্টি করার পূর্বেই ওদের ভাগ্য নির্ধারিত ছিলো। কিন্তু সঠিকতম কথা এটাই যে মাখলুকাতকে সৃষ্টি করার পূর্বেই তাদের ভাগ্য নির্ধারিত ছিল।’ [তাফসীর ইবনু কাছীর

4 সাইয়েদ কুত্ব (রাহিমাহুল্লাহ) ‘তাফসীর ফী যিলালিল কুরআনে বলেন, ‘এ মহাবিশ্বে কোন কিছুই আকস্মিক ও অপরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয় না। প্রতিটি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ঘটনা

আগে থেকেই পরিকল্পিত, মহাবিশ্ব ও সকল প্রাণীর সৃষ্টির পূর্বেই আল্লাহ স্বীয় সর্বব্যাপী জ্ঞান দ্বারা তা জানতেন…।

‘সৃষ্টির আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত এ মহাবিশ্বের যেখানে যতো কিছুই ঘটবে, তা সবই আল্লাহর জানা রয়েছে এবং কালগত বা স্থানগত কোন বাধা তাঁকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে না। প্রত্যেকটি ঘটনা আল্লাহর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে এবং তা তাঁর কাছে সুবিদিত।’

‘অর্থাৎ ভালো ও মন্দ যাই ঘটুক, তা বিশ্বজগত ও প্রাণীসমূহের আবির্ভাবের আগে থেকেই সেই আদি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর আল্লাহর কাছে তা খুবই সহজ ব্যাপার।’

২৩ নাম্বার আয়াত

لِّكَيْلاَ تَأْسَوْا عَلى مَا فَاتَكُمْ وَلاَ تَفْرَحُوْا بِمَآ اتكُمْ ط وَاللهُ لاَيُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرٍ ০

“(এসব এজন্য) যাতে কোন কিছু হারালেই তোমরা ভেংগে না পড় এবং তিনি তোমাদেরকে বড়ো কিছু দিলে তোমরা উল্লাসে ফেটে না পড়। আল্লাহ উদ্ধত-অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না।”

4 এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস (রা) বলেন, ‘এটি এ জন্য ‘যাতে তোমরা যা হারাও, যেমন জীবিকা ও সুস্থতা, তাতে বিমর্ষ না হও, দুঃখিত না হও এবং এ কথা না বল যে এগুলো তো আমাদের জন্য লিখিত ছিলো না। আর আল্লাহ তোমাদেকে যা দেন, যা দান করেন, তাতে হর্ষোৎফুল্ল না হও, অহংকার না কর।….. আল্লাহ পছন্দ করেন না উদ্ধত ও অহংকারীদেরকে যারা আল্লাহর পুরস্কার নিয়ে অহংকার প্রকাশ করে।’ [তাফসীর ইবনুল আব্বাস]

4 ইকরিমা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আনন্দিত ও বিমর্ষ হয় না এমন কেউ নেই। তবে তোমাদের কর্তব্য হচ্ছে আনন্দকে কৃতজ্ঞতায় এবং দুঃখকে ধৈর্যে পরিণত করা।’

4 জাফর আছ্ ছাদিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ওহে আদম সন্তান, হারানো বস্তুর কারণে দুঃখ করছো কেন? ‘ফাউত’ তো তা ফেরত দেবে না। আর যা আছে তার জন্য এতো ফূর্তি কেন? ‘মাউত’ তো তা তোমার হাতে থাকতে দেবে না।’ [তাফসীরে মাযহারী]

4 ইবনু কাছীর(রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসীরে বলেন, ‘এরপর মহান আল্লাহ বলেন: আমি তোমাদেরকে এ খবর এ জন্যই দিলাম যে তোমাদের উপর যে বিপদ আপতিত হয় তা কখনো টলবার ছিলো না এ বিশ্বাস যেন তোমাদের অন্তরে দৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল হয়ে যায়।

সুতরাং বিপদের সময় যেন তোমাদের মধ্যে ধৈর্য, সহনশীলতা, স্থিরতা এবং রূহানী শক্তি বিদ্যমান থাকে। তোমরা যেন হায় হায়, হা-হুতাশ না কর এবং অধৈর্য না হয়ে পড়। তোমরা যেন নিশ্চিন্ত থাক যে এ বিপদ আসারই ছিলো। অনুরূপভাবে যদি তোমরা অর্থ-সম্পদ, বিজয় ইত্যাদি লাভ কর- তবে যেন অহংকারে ফেটে না পড়। এমন যেন না হয় যে অর্থ-সম্পদ লাভ করে আল্লাহকে ভুলে বস। এ সময়েও তোমাদের সামনে আমার শিক্ষা থাকবে যে তোমাদেরকে অর্থ-সম্পদের মালিক করে দেওয়া আমারই হাতে, এতে তোমাদের কোন কৃতিত্ব নেই।’ [তাফসীর ইবনু কাছীর]

4 কাযী মুহাম্মাদ ছানাউল্লাহ পানিপথী (রাহিমাহুল্লাহ) তাফসীরে মায্হারীতে বলেন, ‘এ আয়াতের সার কথা এই যে হারানোর কারণে বিমর্ষ ও ভগ্ন-হৃদয় হওয়া উচিত নয়। কেননা, এটা আল্লাহর আদেশের সামনে আত্মসমর্পণ ও ধৈর্য ধারণের পথে অন্তরায়।

এমনিভাবে প্রাপ্তিতে হর্ষোৎফুল্ল হওয়াও নিষেধ। কারণ এটা দর্প ও আত্মম্ভরিতার পরিচায়ক। এ কারণে সামনে এগিয়ে বলা হচ্ছে- আল্লাহ পছন্দ করেন না উদ্ধত ও অহংকারী ব্যক্তিকে যে পার্থিব নি’মাত নিয়ে দর্প দেখায় এবং মানুষের সামনে অহমিকা প্রদর্শন করে।’

4 মুফতী মুহাম্মাদ শফী (রাহিমাহুল্লাহ) তাফসীর মা’আরেফুল কুরআনে বলেন, ‘২৩ নাম্বার আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে দুনিয়াতে মানুষ যা কিছু বিপদ অথবা সুখ, আনন্দ অথবা দুঃখের সম্মুখীন হয়, তা সবই আল্লাহ তা’আলা লাওহে মাহফুযে মানুষের জন্মের আগেই লিখে রেখেছেন। এ বিষয়ের সংবাদ তোমাদেরকে এজন্য দেওয়া হচ্ছে যাতে তোমরা দুনিয়ার ভালো-মন্দ অবস্থা নিয়ে বেশি চিন্তা-ভাবনা না কর। দুনিয়ার কষ্ট ও বিপদাপদ তেমন আক্ষেপ ও পরিতাপের বিষয় নয় এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ ও অর্থ-সম্পদ তেমন উল্লসিত ও মত্ত হওয়ার বিষয় নয় যে, এগুলোতে মশগুল হয়ে তোমরা আল্লাহর স্মরণ ও আখিরাত সম্পর্কে গাফিল হয়ে যাবে।’

4 মাওলানা শাব্বীর আহমাদ উসমানী (রাহিমাহুল্লাহ) তাফসীরে উসমানীতে বলেন, ‘পূর্ববর্তী আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে যে দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের উপকরণের পেছনে পড়ে আখিরাত-বিমুখ হওয়া মানুষের উচিত নয়। আর এ আয়াতগুলোতে সতর্ক করা হয়েছে যে এখানকার বিপদ-আপদে নিপতিত হয়ে ভারসাম্যের সীমা লংঘন করা উচিত নয়।’

4 সাইয়েদ কুতুব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মানুষ কেবল তখনই ঘটনাবলীতে অধীর ও অস্থির হয়ে থাকে, যখন সে নিজকে মহাবিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ভাবে এবং মনে করে যে এ ধরনের ঘটনা কেবল তার ক্ষুদ্র অস্তিত্বকে বিপর্যস্ত করার জন্যই ঘটে, কিন্তু সে যখন উপলব্ধি করে যে সে নিজে এবং তার উপর ও পৃথিবীর অন্যত্র সংঘটিত ঘটনাবলী মহাবিশ্বের বিশাল দেহে অতি ক্ষুদ্র অণু-পরমাণু সদৃশ, এ সকল অণু-পরমাণু সামগ্রিক বিশ্বপরিকল্পনায় যথাস্থলে অবধারিতভাবে বিদ্যমান এবং মহান আল্লাহ তা পুংখানুপুংখরূপে ও অবিকলভাবে জ্ঞাত, তখন সে সব কিছুতেই শান্ত ও সন্তুষ্ট থাকে। তখন আর কোন কিছু হারিয়ে সে অস্থির হয় না এবং কোন কিছুর প্রাপ্তিতে সে গর্বের আতিশয্যে আত্মভোলা হয়ে যায় না।’ [ফী যিলালিল কুরআন]

4 মুমিনদের মান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন তাঁদেরকে বিপদ-মুছীবাতের সম্মুখীন করেন।

মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,

اِنَّ مِنْ اَشَدِّ النَّاسِ بَلاَءً اَلْاَنْبِيَاءُ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ ০

“মানুষের মধ্যে সবচে’ বেশি বিপদ-মুছীবাত আপতিত হয়েছে নবী-রাসূলদের উপর, এর পর তাদের নিকটবর্তীদের উপর, এর পর তাদের নিকটবর্তীদের উপর এবং এর পর তাদের নিকটবর্তীদের উপর।”

[ফাতিমা (রা) : হুযাইফা ইবনুল ইয়ামানের খালা, মুসনাদে আহমাদ]

সা’দ (রা) জিজ্ঞেস করেন, “হে আল্লাহর রাসূল, মানুষের মধ্যে সবচে’ বেশি বিপদ-মুছীবাত কাদের উপর আপতিত হয়।”

রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,

اَلْاَنْبِيَاءُ ثُمَّ الْاَمْثَلُ فَالْاَمْثَلُ يُبْتَلَى الْعَبْدُ عَلى حَسَبِ دِيْنِهِ فَمَا يَبْرَحُ الْبَلاَءُ بِالْعَبْدِ حَتّى يَدَعَهُ يَمْشِ عَلَى الاَرْضِ وَمَا عَلَيْهِ خَطِيْئَةٌ ০

“আম্বিয়াগণের উপর, অতঃপর তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারীগণের উপর, অতপর তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারীগণের উপর। আল্লাহর প্রত্যেক বান্দাকে তার দীনদারির মান অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। এভাবে চলতে থাকে যেই পর্যন্ত না সে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করে।” [ছাহীহ্ ইবনু হিব্বান]

মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,

مَا يُصِيْبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلاَ وَصَبٍ وَلاَ هَمٍّ وَلاَ حَزَنٍ وَلاَ اَذًى وَلاَ غَمٍّ حَتّى الشَّوْكَةُ يُشَاكُهَا اِلاَّ كَفَّرَ اللهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ ০

“মুসলিম ব্যক্তির যেই কোন ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, উদ্বিগ্নতা, কষ্ট এবং অস্থিরতা এমন কি কোন কাঁটা বিঁধাকেও আল্লাহ তার গুনাহর কাফফারা বানিয়ে দেন।” [আবু সায়ীদ (রা), আবু হুরাইরা (রা), ছাহীহ আলবুখারী, ছাহীহ মুসলিম]

মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,

اِنَّ عِظَمَ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمَ الْبَلاَءِ وَاِنَّ اللهَ تَعَالى اِذَا اَحَبَّ قَوْمًا اِبْتَلاَهُمْ فَمَنْ رَضِىَ فَلَهُ الرِّضَا وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السَّخْطُ ০

“কষ্ট বেশি হলে বিনিময়ও বেশি। আল্লাহ যখন কোন জনগোষ্ঠীকে ভালোবাসেন, তখন তাকে পরীক্ষায় ফেলেন। যেই ব্যক্তি এ পরীক্ষায় সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর যেই ব্যক্তি এ পরীক্ষায় অসন্তুষ্ট হয়, তার জন্য রয়েছে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।” [আনাস (রা), জামে ‘আত্ তিরমিযী]

4 মুমিনের সকল কাজই তাঁর জন্য কল্যাণ বয়ে আনে, যদি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁর ভূমিকা সঠিক হয়।

মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,

عَجَبًا لِاَمْرِ الْمُؤْمِنِ اِنَّ اَمْرَهُ كُلَّهُ لَهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذلِكَ لاَحَدِ اِلاَّ الْمُؤْمِنِ اِنْ اَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَاِنْ اَصَابَتْهُ ضَرًّا ءُصَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ ০

“মুমিনের ব্যাপারটি বড়োই অদ্ভুত। তার সকল কাজই কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কারো ব্যাপারটি এমন নয়। মুমিনের জীবনে আনন্দের কোন বিষয় ঘটলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর। মুমিনের জীবনে কোন দুঃখের বিষয় ঘটলে সে ছবর অবলম্বন করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর।” [সুহাইব ইবনু সিনান (রা), ছাহীহ মুসলিম]

4 কোন ব্যক্তিকে কষ্টে ফেলা, তাকে কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়া এবং তাকে অনুগৃহীত করার ক্ষেত্রে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন। অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো এ ক্ষেত্রেও তাঁর ক্ষমতার অংশীদার কেউ নেই।

সূরা ইউনুস-এর ১০৭ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন বলেন,

وَاِنْ يَّمْسَسْكَ اللهُ بِضُرِّ فَلاَ كَاشِفَ لَه اِلاَّ هُوَ ج وَاِنْ يُّرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلاَ رَادَّ لِفَضْلِه ط يُصِيْبُ بِه مَنْ يَّشَاءُ مِنْ عِبَادِه ط وَهُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ ০

“আল্লাহ যদি তোমাকে কষ্টে ফেলেন, তিনি ছাড়া আর কেউ নেই যে তা দূর করতে পারে। আর তিনি যদি তোমার কোন কল্যাণ করতে চান, এমন কেউ নেই যে তা রুখে দিতে পারে। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে চান- তাঁর অনুগ্রহ দ্বারা ধন্য করেন। আর তিনি ক্ষমাশীল মেহেরবান।”

সূরা আল আন’আম-এর ১৭ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন বলেন,

وَاِنْ يَمْسَسْكَ اللهُ بِضُرٍّ فَلاَ كَاشِفَ لَه اِلاَّ هُوَ ط وَاِنْ يَمْسَسْكَ بِخَيْرٍ فَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ ০

“আল্লাহ যদি তোমাকে কোন কষ্টে ফেলেন, তিনি ছাড়া আর কেউ নেই যে তা দূর করতে পারে। আর তিনি যদি তোমার কোন কল্যাণ করতে চান, তাহলে তিনি তো সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।”

4 এবার আসে ইসলাম প্রতিষ্ঠাকামী কাফিলার উপর বিপদ-মুছীবাত চাপানোর কথা।

এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রতি মুহূর্তে শত্রুদের হামলার আশংকা, একের পর এক যুদ্ধ-বিগ্রহ, সর্বদা অবরোধ পরিস্থিতি, গোটা আরবের সর্বত্র ইসলামগ্রহণকারীদের উপর যুলম-নির্যাতন- এ পরিস্থিতির মধ্যে তখনকার মুমিনদের সময় অতিবাহিত হচ্ছিলো। কাফিররা এ পরিস্থিতিকে মুমিনদের অভিশপ্ত ও লাঞ্ছিত হওয়ার প্রমাণ মনে করতো। মুনাফিকরা এ পরিস্থিতিকে তাদের সন্দেহের সমর্থনে ব্যবহার করতো। আর একনিষ্ঠ মুমিনগণ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এ পরিস্থিতি মুকাবিলা করে চলছিলেন। তবুও বিপদ-মুছীবাতের আধিক্য কোন কোন সময় তাঁদের জন্যও চরম পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়াতো। এ কারণে মুমিনদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে, তোমাদের উপর কোন বিপদই তোমাদের রবের অবগতির বাইরে নাযিল হয়নি। যা কিছু হচ্ছে তা সবই আল্লাহর পূর্ব পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত মুতাবিক হচ্ছে- যা তাঁর দফতরে লিপিবদ্ধ আছে। তোমাদের প্রশিক্ষণের জন্যই এসব কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তোমাদেরকে অগ্রসর করানো হচ্ছে। আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে দিয়ে যেই বিরাট কাজ আঞ্জাম দিতে চান তার জন্য এ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরী। এসব পরীক্ষা ছাড়াই যদি তোমাদেরকে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তোমাদের চরিত্রে এমন সব দুর্বলতা থেকে যাবে যার কারণে তোমরা না পারবে মর্যাদা ও ক্ষমতার গুরুপাক খাদ্য-হজম করতে, না পারবে বাতিলের প্রলয়ংকরী তুফানের চরম আঘাত সহ্য করতে।’ [তাফসীর তাফহীমুল কুরআন]

ব্যক্তি সমষ্টির উপর এ বিপদ-মুছীবাত চাপানোর আরেকটি তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘দুঃখ-কষ্টের উত্তপ্ত অগ্নিকুণ্ডে যদি জ্বালানো না হতো, তাহলে এ কৃত্রিম পদার্থগুলো (অর্থাৎ মেকি মুমিনগণ) যা আল্লাহর কোন কাজে লাগার মতো ছিলো না- খাঁটি সোনা থেকে (অর্থাৎ খাঁটি মুমিনদের থেকে) পৃথক করা যেতো না। আর এগুলো আলাদা করা ছাড়া মেকি ও খাঁটি মুমিনদের এ সংমিশ্রিত সমাবেশকে দুনিয়ার নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মহান পদটি দেওয়া যেতো না।’

আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন মুমিনদেরকে জানিয়ে দেন না যে, তোমাদের কাফিলায় অমুক অমুক ব্যক্তি মেকি মুমিন। বরং তিনি তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী পরীক্ষা হিসেবে এমন সব বিপদ-মুছীবাত পাঠান যার মাধ্যমে মেকি মুমিন এবং খাঁটি মুমিনের পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সূরা আলে ইমরানের ১৭৯ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন,

مَا كَانَ اللهُ لِيَذَرَ الْمُؤْمِنِيْنَ عَلى مَآ اَنْتُمْ عَلَيْهِ حَتّى يَمِيْزَ الْخَبِيْثَ مِنَ الطَّيِّبِ ০

“আল্লাহ মুমিনদেরকে কিছুতেই বর্তমান অবস্থায় থাকতে দেবেন না। তিনি অপবিত্র লোকদেরকে (অর্থাৎ মেকি মুমিনদেরকে) পবিত্র লোকদের (অর্থাৎ খাঁটি মুমিনদের) থেকে আলাদা করবেনই।”

শিক্ষা

4 মুমিনদেরকে মনের গভীরে এ বিশ্বাস দৃঢ়মূল করে নিতে হবে যে কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি কিংবা পৃথিবীর কোন অংশে যেই বিপদ-মুছীবাত সংঘটিত হয় তা আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের পরিকল্পনা অনুযায়ীই হয়ে থাকে।

4 মুমিনদের কর্তব্য হচ্ছে বিপদ-মুছীবাতে ভেংগে না পড়ে ছবর অবলম্বন করা এবং সম্পদ, বিজয় ইত্যাদি প্রাপ্তিতে উল্লাসে ফেটে না পড়ে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের শুকরিয়া আদায় করা।

[অবশ্যই মন-মানসিকতার এই ভারসাম্য উন্নত মানের মুমিনদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।]

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s