তওবা

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

2- باب التوبة
তওবা
قَالَ العلماءُ : التَّوْبَةُ وَاجبَةٌ مِنْ كُلِّ ذَنْب ، فإنْ كَانتِ المَعْصِيَةُ بَيْنَ العَبْدِ وبَيْنَ اللهِ تَعَالَى لاَ تَتَعلَّقُ بحقّ آدَمِيٍّ فَلَهَا ثَلاثَةُ شُرُوط :
أحَدُها : أنْ يُقلِعَ عَنِ المَعصِيَةِ .
والثَّانِي : أَنْ يَنْدَمَ عَلَى فِعْلِهَا .
والثَّالثُ : أنْ يَعْزِمَ أَنْ لا يعُودَ إِلَيْهَا أَبَداً . فَإِنْ فُقِدَ أَحَدُ الثَّلاثَةِ لَمْ تَصِحَّ تَوبَتُهُ.
وإنْ كَانَتِ المَعْصِيةُ تَتَعَلقُ بآدَمِيٍّ فَشُرُوطُهَا أرْبَعَةٌ : هذِهِ الثَّلاثَةُ ، وأنْ يَبْرَأ مِنْ حَقّ صَاحِبِها ، فَإِنْ كَانَتْ مالاً أَوْ نَحْوَهُ رَدَّهُ إِلَيْه ، وإنْ كَانَت حَدَّ قَذْفٍ ونَحْوَهُ مَكَّنَهُ مِنْهُ أَوْ طَلَبَ عَفْوَهُ ، وإنْ كَانْت غِيبَةً استَحَلَّهُ مِنْهَا . ويجِبُ أنْ يَتُوبَ مِنْ جميعِ الذُّنُوبِ ، فَإِنْ تَابَ مِنْ بَعْضِها صَحَّتْ تَوْبَتُهُ عِنْدَ أهْلِ الحَقِّ مِنْ ذلِكَ الذَّنْبِ وبَقِيَ عَلَيهِ البَاقي . وَقَدْ تَظَاهَرَتْ دَلائِلُ الكتَابِ والسُّنَّةِ ، وإجْمَاعِ الأُمَّةِ عَلَى وُجوبِ التَّوبةِ .

আলেমগণ বলেন, প্রতিটি গোনাহ্ থেকেই তাওবা করা অবশ্য কর্তব্য (ওয়াজিব)। যদি কোন গোনাহ্ আল্লাহ্ ও বান্দাহর মধ্যকার বিষয় হয় এবং তার সাথে কোন বান্দাহর হক সম্পৃক্ত না থাকে, তবে তা থেকে তওবা করার জন্য তিনটি শর্ত অবশ্য পালনীয়। প্রথম শর্ত হলো, বান্দাহকে গোনাহ্ থেকে বিরত থাকতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত হলো, তাকে কৃত গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে। আর তৃতীয় শর্ত হলো, পুনরায় গোনাহ্ না করার ব্যাপারে তাকে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে। এই তিনটি শর্তের মধ্যে একটিও যদি অপূর্ণ থাকে, তাহলে তওবা কখনো শুদ্ধ হবে না। কিন্তু গোনাহর কাজটি যদি কোন ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে সেক্ষেত্রে ঐ তিনটি শর্তের সাথে আরো একটি শর্ত যুক্ত হবে। কারো কাছ থেকে যদি কেউ অন্যায়ভাবে ধন-মাল বা বিষয়-সম্পত্তি ছিনিয়ে নিয়ে থাকে তবে তা ফেরত দিতে হবে। অনুরূপভাবে কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা হলে তার জন্য অপরাধীকে নির্দিষ্ট শাস্তি (হদ) ভোগ করতে হবে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। কারো অসাক্ষাতে গীবত (বা নিন্দাবাদ) করা হলে সেজন্যেও ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
মোটকথা, সমস্ত গোনাহর কাজেই তওবা করা আবশ্যক। যদি কতিপয় গোনাহের ব্যাপারে তওবা করা হয়, তবে আহলে সুন্নাতের দৃষ্টিতে তা শুদ্ধ বলে বিবেচিত হবে এবং অবশিষ্ট গোনাহের ব্যাপারে তওবা করা তার জিম্মায় থেকে যাবে। আল্লাহর কিতাব, রাসূলের সুন্নাহ্ ও ইজমায়ে উম্মাত তওবা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করে।

قَالَ الله تَعَالَى :

[ النور : 31](وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

মহান আল্লাহ্ বলেনঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তওবা কর; তাহলে তোমরা কল্যাণ লাভ করবে। [সূরা আন্-নূরঃ ৩১ আয়াত]

وَقالَ تَعَالَى :

[ هود : 3 ](اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ

মহান আল্লাহ্ আরো বলেনঃ তোমরা আপন প্রভুর নিকট ক্ষমা চাও, অতঃপর তাঁর কাছে তওবা কর। [সূরা হূদঃ ৩ আয়াত]

وَقالَ تَعَالَى:

[ التحريم : 8 ].( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحا )

মহান আল্লাহ্ আরো বলেনঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে তওবা (তওবাতুন্ নাসূহ) কর। [সূরা তাহরীমঃ ৮ আয়াত]

13- وعن أبي هريرةَ رضي الله عنه ، قَالَ : سمعْتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم ، يقول : (( والله إنِّي لأَسْتَغْفِرُ الله وأَتُوبُ إِلَيْه في اليَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً ))
[رواه البخاري : 8/83 ( 6307 )]

১৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, আমি রাসূলে আকরামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর কসম! আমি একদিনে সত্তর বারের চেয়েও বেশি তওবা করি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
[বুখারী: ৮/৮৩(৬৩০৭)]

14- وعن الأَغَرِّ بنِ يسار المزنِيِّ رضي الله عنه ، قَالَ : قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم : (( يَا أَيُّهَا النَّاسُ ، تُوبُوا إِلى اللهِ واسْتَغْفِرُوهُ ، فإنِّي أتُوبُ في اليَومِ مئةَ مَرَّةٍ ))
[رواه مسلم : مسلم 8/72 ( 2702 ) ( 41 ) و( 42 )]

১৪. হযরত আগার ইবনে ইয়াসার মুযান্নী (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা কর এবং (গুনাহর জন্য) তাঁর কাছে ক্ষমা চাও। আমি প্রত্যহ একশো বার তওবা করি।
[মুসলিম: ৮/৭২(২৭০২), (৪১) ও (৪২)]

15- وعن أبي حمزةَ أنسِ بنِ مالكٍ الأنصاريِّ- خادِمِ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم – رضي الله عنه ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم : (( للهُ أفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ سَقَطَ عَلَى بَعِيرهِ وقد أضلَّهُ في أرضٍ فَلاةٍ )) مُتَّفَقٌ عليه .
وفي رواية لمُسْلمٍ : (( للهُ أَشَدُّ فَرَحاً بِتَوبَةِ عَبْدِهِ حِينَ يتوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ عَلَى رَاحِلَتهِ بأرضٍ فَلاةٍ ، فَانْفَلَتَتْ مِنْهُ وَعَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابهُ فأَيِسَ مِنْهَا ، فَأَتى شَجَرَةً فاضطَجَعَ في ظِلِّهَا وقد أيِسَ مِنْ رَاحلَتهِ ، فَبَينَما هُوَ كَذَلِكَ إِذْ هُوَ بِها قائِمَةً عِندَهُ ، فَأَخَذَ بِخِطامِهَا ، ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الفَرَحِ : اللَّهُمَّ أنْتَ عَبدِي وأنا رَبُّكَ ! أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الفَرَحِ )) .
[أخرجه : البخاري 8/84 ( 6309 ) ، ومسلم 8/93 ( 2747 ) ( 7 ) و( 8 )]

১৫. রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম হযরত আবু হামযা আনাস ইবনে মালিক (রা) বলেন, রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন, যার উট গভীর মরুভূমিতে হারিয়ে যাবার পর আবার সে তা ফিরে পায়। (বুখারী ও মুসলিম)।
মুসলিমের অন্য এক বর্ননায় আছেঃ আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন যার খাবার ও পানীয় সামগ্রী নিয়ে সাওয়ারী উটটি হঠাৎ গভীর মরুভূমিতে হারিয়ে গেল। অনেক খোঁজাখুজির পর হতাশ হয়ে লোকটি একটি গাছের ছায়ায় শুয়ে পড়ল। এরূপ অবস্থায় হঠাৎ সে উটটিকে নিজের কাছে দাঁড়ানো দেখতে পেল। সে উটের লাগাম ধরে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে বলতে লাগলঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দাহ! আর আমি তোমার প্রভু! সে আনন্দের আতিশয্যেই এ ধরনের ভুল করে বসল।
[বুখারী: ৮/৮৪(৬৩০৯) ও মুসলিম: ৮/৯৩(২৭৪৭) (৭) এবং (৮)]

16-  ، عن النَّبيّ صلى اللهtوعن أبي موسَى عبدِ اللهِ بنِ قَيسٍ الأشْعريِّ  عليه وسلم ،قَالَ : (( إنَّ الله تَعَالَى يَبْسُطُ يَدَهُ بالليلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ ، ويَبْسُطُ يَدَهُ بالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيلِ ، حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِها )) رواه مسلم .
[أخرجه : مسلم 8/99 – 100 ( 2759 )]

১৬. হযরত আবু মুসা আশ’আরী (রা) রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত (অর্থাৎ, কিয়ামত না আসা পর্যন্ত) মহান আল্লাহ্ প্রতি রাতে তার ক্ষমার হাত প্রসারিত করতে থাকেন, যাতে করে দিনে গোনাহগার লোকেরা তওবা করে নিতে পারে। আর তিনি দিনের বেলা তার ক্ষমার হাত প্রসারিত করে থাকেন, যাতে করে রাতের গোনাহগার লোকেরা তওবা করে নিতে পারে।
[মুসলিম: ৮/৯৯-১০০(২৭৫৯)]

، قَالَ :t17- وعن أبي هُريرةَ  قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : (( مَنْ تَابَ قَبْلَ أنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِها تَابَ اللهُ عَلَيهِ )) رواه مسلم .
[أخرجه : مسلم 8/73 ( 2703 )]

১৭. হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদ্বয়ের পূর্বে তওবা করবে, আল্লাহ্ তার তওবা কবুল করবেন। (মুসলিম)
[মুসলিম: ৮/৭৩(২৭০৩)]

18- وعن أبي عبد الرحمان عبد الله بنِ عمَرَ بنِ الخطابِ رضيَ اللهُ عنهما ،  يَقْبَلُ تَوبَةَUعن النَّبي صلى الله عليه وسلم، قَالَ : (( إِنَ الله  العَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ )) رواه الترمذي، وَقالَ : (( حديث حسن )) .
[أخرجه : ابن ماجه ( 4253 ) ، والترمذي ( 3537 )]

১৮. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহিমান্বিত আল্লাহ্ মৃত্যুর নিদর্শন প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত বান্দার তওবা কবুল করে থাকেন। ইমাম তিরমিযি হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।
[ইবনে মাজাহ্: (৪২৫৩), তিরমিযী: (৩৫৩৭)]

19- وعن زِرِّ بن حُبَيْش رضي الله عنه، قَالَ : أَتَيْتُ صَفْوَانَ بْنَ عَسَّالٍ رضي الله عنه أسْألُهُ عَن الْمَسْحِ عَلَى الخُفَّيْنِ ، فَقالَ : ما جاءَ بكَ يَا زِرُّ ؟ فقُلْتُ : ابتِغَاء العِلْمِ ، فقالَ : إنَّ المَلائكَةَ تَضَعُ أجْنِحَتَهَا لطَالبِ العِلْمِ رِضىً بِمَا يطْلُبُ . فقلتُ : إنَّهُ قَدْ حَكَّ في صَدْري المَسْحُ عَلَى الخُفَّينِ بَعْدَ الغَائِطِ والبَولِ ، وكُنْتَ امْرَءاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم فَجئتُ أَسْأَلُكَ هَلْ سَمِعْتَهُ يَذكُرُ في ذلِكَ شَيئاً ؟ قَالَ : نَعَمْ ، كَانَ يَأْمُرُنا إِذَا كُنَّا سَفراً – أَوْ مُسَافِرينَ – أنْ لا نَنْزعَ خِفَافَنَا ثَلاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيالِيهنَّ إلاَّ مِنْ جَنَابَةٍ ، لكنْ مِنْ غَائطٍ وَبَولٍ ونَوْمٍ . فقُلْتُ : هَلْ سَمِعْتَهُ يَذْكرُ في الهَوَى شَيئاً ؟ قَالَ : نَعَمْ ، كُنّا مَعَ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم في سَفَرٍ ، فبَيْنَا نَحْنُ عِندَهُ إِذْ نَادَاه أَعرابيٌّ بصَوْتٍ لَهُ جَهْوَرِيٍّ : يَا مُحَمَّدُ ، فأجابهُ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم نَحْواً مِنْ صَوْتِه : (( هَاؤُمْ )) فقُلْتُ لَهُ :
وَيْحَكَ  ! اغْضُضْ مِنْ صَوتِكَ فَإِنَّكَ عِنْدَ النَّبي  صلى الله عليه وسلم ، وَقَدْ نُهِيتَ عَنْ هذَا ! فقالَ : والله لاَ أغْضُضُ . قَالَ الأعرَابيُّ : المَرْءُ يُحبُّ القَوْمَ وَلَمَّا يلْحَقْ بِهِمْ ؟ قَالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم : (( المَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ يَومَ القِيَامَةِ )) . فَمَا زَالَ يُحَدِّثُنَا حَتَّى ذَكَرَ بَاباً مِنَ المَغْرِبِ مَسيرَةُ عَرْضِهِ أَوْ يَسِيرُ الرَّاكبُ في عَرْضِهِ أرْبَعينَ أَوْ سَبعينَ عاماً – قَالَ سُفْيانُ أَحدُ الرُّواةِ : قِبَلَ الشَّامِ – خَلَقَهُ الله تَعَالَى يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاواتِ والأَرْضَ مَفْتوحاً للتَّوْبَةِ لا يُغْلَقُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْهُ. رواه الترمذي وغيره، وَقالَ: ((حديث حسن صحيح)).
[أخرجه : ابن ماجه ( 226 ) ، والترمذي ( 3535 ) ، والنسائي 1/83 و98]

১৯. হযরত যির ইবনে হুবাইশ (রা) বর্ণনা করেনঃ একদা আমি মোজার উপর মাসেহ করার বিষয়ে প্রশ্ন করার উদ্দেশ্যে সাফওয়ান ইবনে আসলাম (রা) এর কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি আমার আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করলে আমি বললাম, জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে এসেছি। তিনি বললেনঃ ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষনকারীর জ্ঞান অন্বেষনে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা তার জন্য বিছিয়ে দেয়। আমি বললাম, মলমূত্র ত্যাগের পর মোজার উপর মাসেহ্ করার ব্যাপারে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে। আপনি রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী। এ কারণেই আমি আপনার কাছে জানতে এসেছি যে, আপনি এ ব্যাপারে তাঁর কাছ থেকে কিছু শুনেছেন কিনা? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আমরা যখন সফরে থাকতাম তখন রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তিন দিন তিন রাত অবধি জানাবাত (গোসল ফরজ হওয়ার মত নাপাক অবস্থা) ছাড়া পা থেকে মোজা খুলতে বারণ করেছেন। অর্থাৎ মলমূত্র ত্যাগ ও নিদ্রার পর অযু করতে গিয়ে মোজা খুলতে হবে না। (অর্থাৎ  পা ধোয়ার প্রয়োজন হবে না, শুধু মাসেহ্ করলেই চলবে।)
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ভালবাসা সম্পর্কে আপনি রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিছু বলতে শুনেছেন কিনা? তিনি জবাবে বললেন, জ্বি হ্যাঁ, আমরা এক সফরে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। আমরা তাঁর খুব কাছাকাছি থাকাকালে একদিন হঠাৎ এক গ্রাম্য লোক (বেদুঈন) এসে খুব চড়া গলায় ‘হে মুহাম্মদ’ বলে তাঁকে ডাক দিল। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও একই রূপ জোরালো কন্ঠে সাড়া দিয়ে বললেন, ‘এসো, বসো’। আমি লোকটিকে বললাম, তোমার জন্য আমার দুঃখ হয়। তুমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিশে এসে চড়া গলায় আওয়াজ করছ; অথচ তোমাকে এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তুমি গলার স্বর নিচু কর। লোকটি বলল: ‘আল্লাহর কসম! আমি গলার স্বর নিচু করবো না’। এরপর সে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রশ্ন করলোঃ এক ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়কে ভালবাসে, অথচ সে এখনো তাদের সাথে সাক্ষাতের অবকাশ পায়নি। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (দুনিয়ায়) যে ব্যক্তি যাকে ভালবাসে, কেয়ামতের দিন সে তারই সাথে থাকবে। এরপর তিনি কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে পশ্চিম দিকের একটি দরজার কথা বললেন, যার প্রস্থ পায়ে হেঁটে গেলে কিংবা যানবাহনে গেলে চল্লিশ থেকে সত্তর বছর। সুফিয়ান সাওরী নামক একজন হাদীস বর্ণনাকারী বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন, সেই দিন থেকে তিনি এই দরজাটি তওবার জন্য খোলা রেখেছেন। আর পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত এটি বন্ধ করা হবে না।
[ইবনে মাজাহ্: ২২৬, তিরমিযী: ৩৫৩৫, নাসায়ী: ১/৮৩ ও ৯৮। ইমাম তিরমিযী এবং অন্যরা এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। খোদ ইমাম তিরমিযী একে সহীহ ও হাসান হাদীস রূপে উল্লেখ করেছেন।]

t20- وعن أبي سَعيد سَعْدِ بنِ مالكِ بنِ سِنَانٍ الخدريِّ  : أنّ نَبِيَّ الله صلى الله عليه وسلم ، قَالَ : (( كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكمْ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وتِسْعينَ نَفْساً ، فَسَأَلَ عَنْ أعْلَمِ أَهْلِ الأرضِ ، فَدُلَّ عَلَى رَاهِبٍ ، فَأَتَاهُ . فقال : إنَّهُ قَتَلَ تِسعَةً وتِسْعِينَ نَفْساً فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوبَةٍ ؟ فقالَ : لا ، فَقَتَلهُ فَكَمَّلَ بهِ مئَةً ، ثُمَّ سَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الأَرضِ ، فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ عَالِمٍ . فقَالَ : إِنَّهُ قَتَلَ مِئَةَ نَفْسٍ فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ ؟ فقالَ : نَعَمْ ، ومَنْ يَحُولُ بَيْنَهُ وبَيْنَ التَّوْبَةِ ؟ انْطَلِقْ إِلى أرضِ كَذَا وكَذَا فإِنَّ بِهَا أُناساً يَعْبُدُونَ الله تَعَالَى فاعْبُدِ الله مَعَهُمْ ، ولاَ تَرْجِعْ إِلى أَرْضِكَ فَإِنَّهَا أرضُ سُوءٍ ، فانْطَلَقَ حَتَّى إِذَا نَصَفَ الطَّرِيقَ أَتَاهُ الْمَوْتُ ، فاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلائِكَةُ الرَّحْمَةِ ومَلائِكَةُ العَذَابِ . فَقَالتْ مَلائِكَةُ الرَّحْمَةِ : جَاءَ تَائِباً ، مُقْبِلاً بِقَلبِهِ إِلى اللهِ تَعَالَى ، وقالتْ مَلائِكَةُ العَذَابِ : إنَّهُ لمْ يَعْمَلْ خَيراً قَطُّ ، فَأَتَاهُمْ مَلَكٌ في صورَةِ آدَمِيٍّ فَجَعَلُوهُ بَيْنَهُمْ
–  أيْ حَكَماً – فقالَ : قِيسُوا ما بينَ الأرضَينِ فَإلَى أيّتهما كَانَ أدنَى فَهُوَ لَهُ . فَقَاسُوا فَوَجَدُوهُ أدْنى إِلى الأرْضِ التي أرَادَ ، فَقَبَضَتْهُ مَلائِكَةُ الرَّحمةِ )) مُتَّفَقٌ عليه .
وفي رواية في الصحيح : (( فَكَانَ إلى القَريَةِ الصَّالِحَةِ أقْرَبَ بِشِبْرٍ فَجُعِلَ مِنْ أهلِهَا )) .
وفي رواية في الصحيح : (( فَأَوحَى الله تَعَالَى إِلى هذِهِ أَنْ تَبَاعَدِي ، وإِلَى هذِهِ أَنْ تَقَرَّبِي ، وقَالَ : قِيسُوا مَا بيْنَهُما ، فَوَجَدُوهُ إِلى هذِهِ أَقْرَبَ بِشِبْرٍ فَغُفِرَ لَهُ )) . وفي رواية : (( فَنَأى بصَدْرِهِ نَحْوَهَا )) .
[أخرجه : البخاري 4/211 ( 3470 ) ، ومسلم 8/103 ( 2766 ) ( 46 ) و( 47 ) و( 48 )]

২০. হযরত আবু সাঈদ ইবনে মালিক ইবনে সিনান আল খুদরী (রা) বর্ননা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের পূর্বেকার যুগে এক ব্যক্তি নিরানব্বইটি লোক হত্যা করে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম আলেমের সন্ধানে বের হলো। তাকে একজন সংসারত্যাগী খ্রীষ্টান দরবেশের কথা জানিয়ে দেয়া হলো। সে ঐ দরবেশের কাছে গিয়ে বললঃ আমি নিরানব্বইটি লোক হত্যা করেছি। এখন আমার জন্য তওবার কোন সুযোগ আছে কি? দরবেশ বললঃ ‘নেই’। তখন লোকটি দরবেশকেও হত্যা করে একশত সংখ্যা পূর্ণ করল। এরপর আবার সে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম আলেমের সন্ধান জানতে চাইলে তাকে একজন আলেমের সন্ধান জানিয়ে দেয়া হলো। লোকটি তার কাছে গিয়ে বলল সে একশো’ লোককে খুন করেছে। এখন তার জন্য তওবার কোন সুযোগ আছে কি? আলেম বললেনঃ ‘হ্যাঁ, তওবার সুযোগ আছে। তওবা কবুলিয়তের পথে কে প্রতিবন্ধক হতে পারে? তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সেখানে কিছু লোক আল্লাহর বান্দেগীতে লিপ্ত রয়ছে। তুমিও তাদের সঙ্গে আল্লাহর বান্দেগীতে লিপ্ত হও এবং তোমার নিজ দেশে কখনও ফিরে যেও না। কেননা, সেটা খুব খারাপ জায়গা।’ লোকটি নির্দেশিত স্থানের দিকে চলতে লাগলো। অর্ধেক পথ চলার পর তার মৃত্যুর সময় এসে পড়লো। এবার তাকে নিয়ে রহমত ও আযাবের ফেরেশতাদের মধ্যে বিতর্ক দেখা দিল। রহমতের ফেরেশতাদের বক্তব্য ছিলো, এ লোকটি তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে এসেছে। পক্ষান্তরে আযাবের ফেরেশতারা বলতে লাগলো লোকটি তো কখনো কোন পূণ্যের কাজ করেনি। এমন সময় বিরোধ নিস্পত্তির জন্য মানুষের রূপ ধারন করে একজন ফেরেশতা তাদের সামনে উপস্থিত হলো। তখন সবাই তাকে সালিশ হিসেবে মেনে নিল। সালিশরূপী ফেরেশতা বললোঃ তোমরা উভয় দিকে জায়গা মেপে নাও। যে দিকটি যার কাছাকাছি হবে, সে দিকটি তারই বলে গণ্য হবে। সুতরাং জায়গা পরিমাপের পর যে দিকের উদ্দেশ্যে সে আসছিলো, তাকে সে দিকটির কাছাকাছি পাওয়া গেল। এর ভিত্তিতে রহমতের ফেরেশতারা লোকটির প্রাণ কেড়ে নিল। (বুখারী ও মুসলিম)
সহীহ্ বুখারীর অপর একটি বর্ননায় বলা হয়েছেঃ ঐ লোকটি সৎ লোকদের বসতির দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়েছিল। এই কারণে তাকে ঐ লোকদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বুখারীর অপর একটি বর্ননায় আছে, আল্লাহ তা’আলা এক দিকের বসতিকে দুরে সরে যেতে এবং অপর দিকের বসতিকে কাছাকাছি হতে বলে উভয়ের মধ্যবর্তী জমি মাপতে ফেরেশতাদের আদেশ দিলেন। ফলে লোকেরা তাকে সৎ লোকদের জমির দিকে এক বিঘত পরিমাণ বেশি অগ্রবর্তী দেখতে পেল এবং তাকে মার্জনা করে দেয়া হলো। অপর এক বর্ননায় বলা হয়েছে, লোকটি নিজের বুকের উপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে অসৎ লোকদের জমি থেকে দূরে সরে গেল।
[বুখারী: ৪/২১১ (৩৪৭০), মুসলিম: ৮/১০৩ (২৭৬৬) (৪৬) (৪৭) (৪৮)]

21-  مِنْ بَنِيهِ حِينَtوعن عبدِ الله بن كعبِ بنِ مالكٍ ، وكان قائِدَ كعبٍ   يُحَدِّثُ بحَديثهِ حينَtعمِيَ ، قَالَ : سَمِعتُ كَعْبَ بنَ مالكٍ  تَخلَّفَ عن رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم في غَزْوَةِ تَبُوكَ . قَالَ كعبٌ : لَمْ أتَخَلَّفْ عَنْ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم في غَزْوَةٍ غزاها قط إلا في غزوة تَبُوكَ ، غَيْرَ أنّي قَدْ تَخَلَّفْتُ في غَزْوَةِ بَدْرٍ ، ولَمْ يُعَاتَبْ أَحَدٌ تَخَلَّفَ عَنْهُ ؛ إِنَّمَا خَرَجَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم والمُسْلِمُونَ يُريدُونَ عِيرَ قُرَيْشٍ حَتَّى جَمَعَ الله تَعَالَى بَيْنَهُمْ وبَيْنَ عَدُوِّهمْ عَلَى غَيْر ميعادٍ . ولَقَدْ شَهِدْتُ مَعَ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم لَيلَةَ العَقَبَةِ حينَ تَوَاثَقْنَا عَلَى الإِسْلامِ ، وما أُحِبُّ أنَّ لي بِهَا مَشْهَدَ بَدْرٍ ، وإنْ كَانَتْ بدرٌ أذْكَرَ في النَّاسِ مِنْهَا . وكانَ مِنْ خَبَري حينَ تَخَلَّفْتُ عَنْ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم في غَزْوَةِ تَبُوكَ أنِّي لم أكُنْ قَطُّ أَقْوى ولا أَيْسَرَ مِنِّي حِينَ تَخَلَّفْتُ عنْهُ في تِلكَ الغَزْوَةِ ، وَالله ما جَمَعْتُ قَبْلَهَا رَاحِلَتَيْنِ قَطُّ حَتَّى جَمَعْتُهُمَا في تِلْكَ الغَزْوَةِ وَلَمْ يَكُنْ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم يُريدُ غَزْوَةً إلاَّ وَرَّى بِغَيرِها حَتَّى كَانَتْ تلْكَ الغَزْوَةُ ، فَغَزَاها رسولُ الله صلى الله عليه وسلم في حَرٍّ شَديدٍ ، واسْتَقْبَلَ سَفَراً بَعِيداً وَمَفَازاً ، وَاستَقْبَلَ عَدَداً كَثِيراً ، فَجَلَّى للْمُسْلِمينَ أمْرَهُمْ ليتَأهَّبُوا أُهْبَةَ غَزْوِهمْ فأَخْبرَهُمْ بوَجْهِهِمُ الَّذِي يُريدُ ، والمُسلِمونَ مَعَ رسولِ الله كثيرٌ وَلاَ يَجْمَعُهُمْ كِتَابٌ حَافِظٌ ( يُريدُ بذلِكَ الدّيوَانَ ) قَالَ كَعْبٌ : فَقَلَّ رَجُلٌ يُريدُ أنْ يَتَغَيَّبَ إلاَّ ظَنَّ أنَّ ذلِكَ سيخْفَى بِهِ ما لَمْ يَنْزِلْ فِيهِ وَحْيٌ مِنَ الله ، وَغَزا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تِلْكَ الغَزوَةَ حِينَ طَابَت الثِّمَارُ وَالظِّلالُ ، فَأنَا إلَيْهَا أصْعَرُ ، فَتَجَهَّزَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم وَالمُسْلِمُونَ مَعَهُ وطَفِقْتُ أغْدُو لكَيْ أتَجَهَّزَ مَعَهُ ، فأرْجِعُ وَلَمْ أقْضِ شَيْئاً ، وأقُولُ في نفسي : أنَا قَادرٌ عَلَى ذلِكَ إِذَا أَرَدْتُ ، فَلَمْ يَزَلْ يَتَمادى بي حَتَّى اسْتَمَرَّ بالنَّاسِ الْجِدُّ ، فأصْبَحَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم غَادياً والمُسْلِمُونَ مَعَهُ وَلَمْ أقْضِ مِنْ جِهَازي شَيْئاً ، ثُمَّ غَدَوْتُ فَرَجَعْتُ وَلَمْ أقْضِ شَيئاً ، فَلَمْ يَزَلْ يَتَمَادَى بي حَتَّى أسْرَعُوا وتَفَارَطَ الغَزْوُ ، فَهَمَمْتُ أنْ أرْتَحِلَ فَأُدْرِكَهُمْ ، فَيَا لَيْتَني فَعَلْتُ ، ثُمَّ لم يُقَدَّرْ ذلِكَ لي ، فَطَفِقْتُ إذَا خَرَجْتُ في النَّاسِ بَعْدَ خُرُوجِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَحْزُنُنِي أنِّي لا أرَى لي أُسْوَةً ، إلاّ رَجُلاً مَغْمُوصَاً عَلَيْهِ في النِّفَاقِ ، أوْ رَجُلاً مِمَّنْ عَذَرَ اللهُ تَعَالَى مِنَ الضُّعَفَاءِ ، وَلَمْ يَذْكُرْنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَلَغَ تَبُوكَ ، فَقَالَ وَهُوَ جَالِسٌ في القَوْمِ بِتَبُوكَ : (( ما فَعَلَ كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ ؟ )) فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ : يا رَسُولَ اللهِ ، حَبَسَهُ بُرْدَاهُ والنَّظَرُ في عِطْفَيْهِ .  : بِئْسَ مَا قُلْتَ ! واللهِ ياtفَقَالَ لَهُ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ  رَسُولَ اللهِ مَا عَلِمْنَا عَلَيْهِ إلاَّ خَيْرَاً ، فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم . فَبَيْنَا هُوَ عَلى ذَلِكَ رَأى رَجُلاً مُبْيِضاً يَزُولُ بِهِ السَّرَابُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : (( كُنْ أَبَا خَيْثَمَةَ )) ، فَإذَا هُوَ أبُو خَيْثَمَةَ الأنْصَارِيُّ وَهُوَ الَّذِي تَصَدَّقَ بِصَاعِ التَّمْرِ حِيْنَ لَمَزَهُ المُنَافِقُونَ .
قَالَ كَعْبٌ : فَلَمَّا بَلَغَنِي أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ تَوَجَّهَ قَافِلاً مِنْ تَبُوكَ حَضَرَنِي بَثِّي ، فَطَفِقْتُ أتَذَكَّرُ الكَذِبَ وأقُولُ : بِمَ أخْرُجُ مِنْ سَخَطِهِ غَدَاً ؟ وأسْتَعِيْنُ عَلى ذَلِكَ بِكُلِّ ذِي رأْيٍ مِنْ أهْلِي ، فَلَمَّا قِيْلَ : إنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قّدْ أظَلَّ قَادِمَاً ، زَاحَ عَنّي البَاطِلُ حَتَّى عَرَفْتُ أَنِّي لَنْ أَنْجُوَ مِنْهُ بِشَيءٍ أَبَداً ، فَأجْمَعْتُ صدْقَهُ وأَصْبَحَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم قَادِماً ، وَكَانَ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ بَدَأَ بِالمَسْجِدِ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ لِلنَّاسِ ، فَلَمَّا فَعَلَ ذلِكَ جَاءهُ المُخَلَّفُونَ يَعْتَذِرونَ إِلَيْه ويَحْلِفُونَ لَهُ ، وَكَانُوا بِضْعاً وَثَمانينَ رَجُلاً ، فَقَبِلَ مِنْهُمْ عَلانِيَتَهُمْ وَبَايَعَهُمْ واسْتَغْفَرَ لَهُمْ وَوَكَلَ سَرَائِرَهُمْ إِلى الله تَعَالَى ، حَتَّى جِئْتُ، فَلَمَّا سَلَّمْتُ تَبَسَّمَ تَبَسُّمَ المُغْضَبِ. ثُمَّ قَالَ : (( تَعَالَ )) ، فَجِئْتُ أمْشي حَتَّى جَلَسْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ ، فقالَ لي : (( مَا خَلَّفَكَ ؟ ألَمْ تَكُنْ قَدِ ابْتَعْتَ ظَهْرَكَ ؟ )) قَالَ : قُلْتُ : يَا رسولَ الله ، إنّي والله لَوْ جَلَسْتُ عِنْدَ غَيْرِكَ مِنْ أهْلِ الدُّنْيَا لَرَأيتُ أنِّي سَأخْرُجُ مِنْ سَخَطِهِ بِعُذْرٍ ؛ لقَدْ أُعْطِيتُ جَدَلاً ، ولَكِنِّي والله لَقَدْ عَلِمْتُ لَئِنْ حَدَّثْتُكَ اليوم حَدِيثَ كَذبٍ تَرْضَى به عنِّي لَيُوشِكَنَّ الله أن يُسْخِطَكَ عَلَيَّ ، وإنْ حَدَّثْتُكَ حَدِيثَ صِدقٍ تَجِدُ عَلَيَّ فِيهِ إنّي لأَرْجُو فِيهِ  ، والله ما كَانَ لي مِنْ عُذْرٍ ، واللهِ مَا كُنْتُUعُقْبَى الله  قَطُّ أَقْوَى وَلاَ أَيْسَرَ مِنِّي حِينَ تَخَلَّفْتُ عَنْكَ . قَالَ : فقالَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم : (( أمَّا هَذَا فقَدْ صَدَقَ ، فَقُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللهُ فيكَ )) . وَسَارَ رِجَالٌ مِنْ بَنِي سَلِمَة فاتَّبَعُوني فَقالُوا لِي : واللهِ مَا عَلِمْنَاكَ أذْنَبْتَ ذَنْباً قَبْلَ هذَا لَقَدْ عَجَزْتَ في أنْ لا تَكونَ اعتَذَرْتَ إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بما اعْتَذَرَ إليهِ المُخَلَّفُونَ ، فَقَدْ كَانَ كَافِيكَ ذَنْبَكَ اسْتِغْفَارُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَكَ . قَالَ : فَوالله ما زَالُوا يُؤَنِّبُونَنِي حَتَّى أَرَدْتُّ أَنْ أرْجعَ إِلَى رسولِ الله صلى الله عليه وسلم فأُكَذِّبَ نَفْسِي ، ثُمَّ قُلْتُ لَهُمْ : هَلْ لَقِيَ هذَا مَعِيَ مِنْ أَحَدٍ ؟ قَالُوا : نَعَمْ ، لَقِيَهُ مَعَكَ رَجُلانِ قَالاَ مِثْلَ مَا قُلْتَ ، وَقيلَ لَهُمَا مِثْلَ مَا قيلَ لَكَ ، قَالَ : قُلْتُ : مَنْ هُما ؟ قَالُوا : مُرَارَةُ بْنُ الرَّبيع الْعَمْرِيُّ ، وهِلاَلُ ابنُ أُمَيَّةَ الوَاقِفِيُّ ؟ قَالَ : فَذَكَرُوا لِي رَجُلَينِ صَالِحَينِ قَدْ شَهِدَا بَدْراً فيهِما أُسْوَةٌ ، قَالَ : فَمَضَيْتُ حِينَ ذَكَرُوهُما لِي . ونَهَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَنْ كَلامِنا أيُّهَا الثَّلاثَةُ مِنْ بَيْنِ مَنْ تَخَلَّفَ عَنْهُ ، فاجْتَنَبَنَا النَّاسُ – أوْ قَالَ : تَغَيَّرُوا لَنَا – حَتَّى تَنَكَّرَتْ لي في نَفْسي الأَرْض ، فَمَا هِيَ بالأرْضِ الَّتي أعْرِفُ ، فَلَبِثْنَا عَلَى ذلِكَ خَمْسِينَ لَيْلَةً . فَأمّا صَاحِبَايَ فَاسْتَكَانا وقَعَدَا في بُيُوتِهِمَا يَبْكيَان . وأمَّا أنَا فَكُنْتُ أشَبَّ الْقَومِ وأجْلَدَهُمْ فَكُنْتُ أخْرُجُ فَأشْهَدُ الصَّلاَةَ مَعَ المُسْلِمِينَ ، وأطُوفُ في الأَسْوَاقِ وَلا يُكَلِّمُنِي أَحَدٌ ، وَآتِي رسولَ الله صلى الله عليه وسلم فأُسَلِّمُ عَلَيْهِ وَهُوَ في مَجْلِسِهِ بَعْدَ الصَّلاةِ ، فَأَقُولُ في نَفسِي : هَلْ حَرَّكَ شَفَتَيْه برَدِّ السَّلام أَمْ لاَ ؟ ثُمَّ أُصَلِّي قَريباً مِنْهُ وَأُسَارِقُهُ النَّظَرَ ، فَإِذَا أقْبَلْتُ عَلَى صَلاتِي نَظَرَ إلَيَّ وَإِذَا الْتَفَتُّ نَحْوَهُ أعْرَضَ عَنِّي ، حَتَّى إِذَا طَال ذلِكَ عَلَيَّ مِنْ جَفْوَةِ المُسْلِمينَ مَشَيْتُ حَتَّى تَسَوَّرْتُ جِدارَ حائِط أبي قَتَادَةَ وَهُوَ ابْنُ عَمِّي وأَحَبُّ النَّاس إِلَيَّ ، فَسَلَّمْتُ عَلَيهِ فَوَاللهِ مَا رَدَّ عَليَّ السَّلامَ ، فَقُلْتُ لَهُ : يَا أَبَا قَتَادَةَ ، أنْشُدُكَ بالله هَلْ تَعْلَمُنِي أُحِبُّ الله وَرَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم ؟ فَسَكَتَ ، فَعُدْتُ فَنَاشَدْتُهُ فَسَكَتَ ، فَعُدْتُ فَنَاشَدْتُهُ، فَقَالَ : اللهُ ورَسُولُهُ أَعْلَمُ. فَفَاضَتْ عَيْنَايَ ، وَتَوَلَّيْتُ حَتَّى تَسَوَّرْتُ الجِدَارَ ، فَبَيْنَا أَنَا أمْشِي في سُوقِ الْمَدِينة إِذَا نَبَطِيٌّ مِنْ نَبَطِ أهْلِ الشَّام مِمّنْ قَدِمَ بالطَّعَامِ يَبيعُهُ بِالمَدِينَةِ يَقُولُ : مَنْ يَدُلُّ عَلَى كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ ؟ فَطَفِقَ النَّاسُ يُشِيرُونَ لَهُ إلَيَّ حَتَّى جَاءنِي فَدَفَعَ إِلَيَّ كِتَاباً مِنْ مَلِكِ غَسَّانَ ، وَكُنْتُ كَاتباً . فَقَرَأْتُهُ فإِذَا فِيهِ : أَمَّا بَعْدُ، فإِنَّهُ قَدْ بَلَغَنا أنَّ صَاحِبَكَ قَدْ جَفَاكَ وَلَمْ يَجْعَلْكَ اللهُ بدَارِ هَوانٍ وَلاَ مَضْيَعَةٍ ، فَالْحَقْ بنَا نُوَاسِكَ ، فَقُلْتُ حِينَ قَرَأْتُهَا : وَهَذِهِ أَيضاً مِنَ البَلاءِ ، فَتَيَمَّمْتُ بهَا التَّنُّورَ فَسَجَرْتُهَا ، حَتَّى إِذَا مَضَتْ أَرْبَعُونَ مِنَ الْخَمْسينَ وَاسْتَلْبَثَ الْوَحْيُ إِذَا رسولُ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم يَأتِيني ، فَقالَ : إنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يَأمُرُكَ أنْ تَعْتَزِلَ امْرَأتَكَ ، فَقُلْتُ : أُطَلِّقُهَا أمْ مَاذَا أفْعَلُ ؟ فَقالَ : لاَ ، بَلِ اعْتَزِلْهَا فَلاَ تَقْرَبَنَّهَا ، وَأَرْسَلَ إِلَى صَاحِبَيَّ بِمِثْلِ ذلِكَ . فَقُلْتُ لامْرَأتِي : الْحَقِي بِأهْلِكِ فَكُوني عِنْدَهُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللهُ في هَذَا الأمْرِ . فَجَاءتِ امْرَأةُ هِلاَلِ بْنِ أُمَيَّةَ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ لَهُ : يَا رَسُولَ الله ، إنَّ هِلاَلَ بْنَ أمَيَّةَ شَيْخٌ ضَائِعٌ لَيْسَ لَهُ خَادِمٌ ، فَهَلْ تَكْرَهُ أنْ أخْدُمَهُ ؟ قَالَ : (( لاَ ، وَلَكِنْ لاَ يَقْرَبَنَّكِ )) فَقَالَتْ : إِنَّهُ واللهِ ما بِهِ مِنْ حَرَكَةٍ إِلَى شَيْءٍ ، وَوَالله مَا زَالَ يَبْكِي مُنْذُ كَانَ مِنْ أمْرِهِ مَا كَانَ إِلَى يَومِهِ هَذَا . فَقَالَ لي بَعْضُ أهْلِي : لَو اسْتَأْذَنْتَ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم في امْرَأَتِكَ فَقَدْ أَذِن لاِمْرَأةِ هلاَل بْنِ أمَيَّةَ أنْ تَخْدُمَهُ ؟ فَقُلْتُ : لاَ أسْتَأذِنُ فيها رسولَ الله صلى الله عليه وسلم ، وَمَا يُدْرِيني مَاذَا يقُول رسولُ الله صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَأْذَنْتُهُ ، وَأَنَا رَجُلٌ شَابٌ ! فَلَبِثْتُ بِذَلِكَ عَشْرَ لَيَالٍ فَكَمُلَ لَنا خَمْسُونَ لَيْلَةً مِنْ حِينَ نُهِيَ عَنْ كَلاَمِنا ، ثُمَّ صَلَّيْتُ صَلاَةَ الْفَجْرِ صَبَاحَ خَمْسِينَ لَيْلَةً عَلَى ظَهْرِ بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِنَا ، فَبَيْنَا أَنَا جَالِسٌ عَلَى الْحالِ الَّتي ذَكَرَ الله تَعَالَى مِنَّا ، قَدْ ضَاقَتْ عَلَيَّ نَفْسي وَضَاقَتْ عَلَيَّ الأرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ، سَمِعْتُ صَوْتَ صَارِخٍ أوفَى عَلَى سَلْعٍ يَقُولُ بِأعْلَى صَوتِهِ : يَا كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ أبْشِرْ ، فَخَرَرْتُ سَاجِداً ، وَعَرَفْتُ أنَّهُ قَدْ جَاءَ فَرَجٌ . Uفآذَنَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم النَّاسَ بِتَوْبَةِ الله  عَلَيْنَا حِينَ صَلَّى صَلاةَ الفَجْر فَذَهَبَ النَّاسُ يُبَشِّرُونَنَا ، فَذَهَبَ قِبَلَ صَاحِبَيَّ مُبَشِّرونَ وَرَكَضَ رَجُلٌ إِلَيَّ فَرَساً وَسَعَى سَاعٍ مِنْ أسْلَمَ قِبَلِي ، وَأَوْفَى عَلَى الْجَبَلِ ، فَكانَ الصَّوْتُ أسْرَعَ مِنَ الفَرَسِ ، فَلَمَّا جَاءني الَّذِي سَمِعْتُ صَوْتَهُ يُبَشِّرُني نَزَعْتُ لَهُ ثَوْبَيَّ فَكَسَوْتُهُمَا إيَّاهُ بِبشارته، وَاللهِ مَا أمْلِكُ غَيْرَهُمَا يَوْمَئِذٍ ، وَاسْتَعَرْتُ ثَوْبَيْنِ فَلَبسْتُهُما ، وَانْطَلَقْتُ أتَأمَّمُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يَتَلَقَّاني النَّاسُ فَوْجاً فَوْجاً يُهنِّئونَني بالتَّوْبَةِ وَيَقُولُونَ لِي : لِتَهْنِكَ تَوْبَةُ الله عَلَيْكَ . حَتَّى دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا رسولُ الله صلى الله عليه وسلم tجَالِسٌ حَوْلَه النَّاسُ ، فَقَامَ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ  يُهَرْوِلُ حَتَّى صَافَحَني وَهَنَّأَنِي ، والله مَا قَامَ رَجُلٌ مِنَ المُهَاجِرينَ غَيرُهُ – فَكَانَ كَعْبٌ لاَ يَنْسَاهَا لِطَلْحَةَ – .
قَالَ كَعْبٌ : فَلَمَّا سَلَّمْتُ عَلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ يَبْرُقُ وَجْهُهُ مِنَ السُّرُور : (( أبْشِرْ بِخَيْرِ يَومٍ مَرَّ عَلَيْكَ مُذْ وَلَدَتْكَ أُمُّكَ )) فَقُلْتُ : أمِنْ عِنْدِكَ يَا رَسُول الله أَمْ مِنْ عِندِ الله ؟ قَالَ : (( لاَ ، بَلْ مِنْ عِنْدِ  )) ، وَكَانَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم إِذَا سُرَّ اسْتَنَارَUالله  وَجْهُهُ حَتَّى كَأَنَّ وَجْهَهُ قِطْعَةُ قَمَرٍ وَكُنَّا نَعْرِفُ ذلِكَ مِنْهُ ، فَلَمَّا جَلَسْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ قُلْتُ : يَا رسولَ الله ، إنَّ مِنْ تَوْبَتِي أنْ أنْخَلِعَ مِنْ مَالِي صَدَقَةً إِلَى اللهِ وَإِلَى رَسُولهِ . فَقَالَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم : (( أمْسِكَ عَلَيْكَ بَعْضَ مَالِكَ فَهُوَ خَيْرٌ    لَكَ )) . فقلتُ : إِنِّي أُمْسِكُ سَهْمِي الَّذِي بِخَيبَر . وَقُلْتُ : يَا رسولَ الله ، إنَّ الله تَعَالَى إِنَّمَا أنْجَانِي بالصِّدْقِ ، وإنَّ مِنْ تَوْبَتِي أنْ لا أُحَدِّثَ إلاَّ صِدْقاً مَا بَقِيتُ ، فوَالله مَا عَلِمْتُ أَحَداً مِنَ المُسْلِمينَ أبْلاهُ الله تَعَالَى في صِدْقِ الحَدِيثِ مُنْذُ ذَكَرْتُ ذلِكَ لِرسولِ الله صلى الله عليه وسلم أحْسَنَ مِمَّا أبْلانِي الله تَعَالَى ، واللهِ مَا تَعَمَّدْتُ كِذْبَةً مُنْذُ قُلْتُ ذلِكَ لِرسولِ الله صلى الله عليه وسلم إِلَى يَومِيَ هَذَا ، وإنِّي لأرْجُو أنْ يَحْفَظَنِي الله تَعَالَى فيما بَقِيَ ، قَالَ : فأَنْزَلَ الله تَعَالَى  لَقَدْ تَابَ اللهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ):  ) حَتَّى بَلَغَ : (الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ  إِنَّهُ بِهِمْ رَؤُوفٌ رَحِيم وَعَلَى الثَّلاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا  حَتَّى بَلَغَ :(حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ   [ التوبة : 117-119 ]( اتَّقُوا اللهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ ) قَالَ كَعْبٌ : واللهِ ما أنْعَمَ الله عَليَّ مِنْ نعمةٍ قَطُّ بَعْدَ إذْ هَدَاني اللهُ للإِسْلامِ أَعْظَمَ في نَفْسِي مِنْ صِدقِي رسولَ الله صلى الله عليه وسلم أنْ لا أكونَ كَذَبْتُهُ ، فَأَهْلِكَ كما هَلَكَ الَّذينَ كَذَبُوا ؛ إنَّ الله تَعَالَى قَالَ للَّذِينَ كَذَبُوا حِينَ أنْزَلَ  سَيَحْلِفُونَ)الوَحْيَ شَرَّ مَا قَالَ لأَحَدٍ ، فقال الله تَعَالَى :  بِاللهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ فَأَعْرِضُوا عَنْهُمْ إِنَّهُمْ رِجْسٌ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ يَحْلِفُونَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنْ تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللهَ لا يَرْضَى عَنِ الْقَوْمِ  [ التوبة : 95-96 ] قَالَ كَعْبٌ : كُنّا خُلّفْنَا(الْفَاسِقِينَ  أيُّهَا الثَّلاَثَةُ عَنْ أمْرِ أُولئكَ الذينَ قَبِلَ مِنْهُمْ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم حِينَ حَلَفُوا لَهُ فَبَايَعَهُمْ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمْ وأرجَأَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم أمْرَنَا حَتَّى قَضَى الله  وَعَلَى الثَّلاثَةِ)تَعَالَى فِيهِ بذِلكَ . قَالَ الله تَعَالَى :   وَليْسَ الَّذِي ذَكَرَ مِمَّا خُلِّفْنَا(الَّذِينَ خُلِّفُوا  تَخلُّفُنَا عن الغَزْو ، وإنَّمَا هُوَ تَخْلِيفُهُ إيّانا وإرْجَاؤُهُ أمْرَنَا عَمَّنْ حَلَفَ لَهُ واعْتَذَرَ إِلَيْهِ فقبِلَ مِنْهُ. مُتَّفَقٌ عليه .
وفي رواية : أنَّ النَّبيّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ في غَزْوَةِ تَبْوكَ يَومَ الخَميسِ وكانَ يُحِبُّ أنْ يخْرُجَ يومَ الخمِيس .
وفي رواية : وكانَ لاَ يقْدمُ مِنْ سَفَرٍ إلاَّ نَهَاراً في الضُّحَى ، فإِذَا قَدِمَ بَدَأَ بالمَسْجِدِ فَصَلَّى فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ فِيهِ .
[أخرجه : البخاري 6/3 ( 4418 ) ، ومسلم 8/105 ( 2769 ) ( 53 ) و( 54 ) و( 55 )]

২১. হযরত কা’ব ইবনে মালিকের পুত্র আবদুল্লাহ্ বর্ণনা করেনঃ স্বীয় পিতা কা’ব ইবনে মালিক (রা) অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি (আব্দুল্লাহ্) তার পরিচালক ছিলেন। তিনি তাবুক যুদ্ধে তার পিতার অংশগ্রহণ না করার কাহিনী বর্ণনা করে বলেনঃ আমি তাবুক যুদ্ধে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে না গিয়ে পিছনে থেকে যাবার ব্যাপারে কা’ব ইবনে মালিক (রা) এর বক্তব্য শুনেছি। তিনি (কা’ব) বলেনঃ একমাত্র তাবুক যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোন যুদ্ধে আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম না। অবশ্য বদরের যুদ্ধ থেকেও আমি দূরে থেকে গিয়েছিলাম। কিন্তু এই যুদ্ধে যারা যোগদান করেননি, তাদের কাউকে সাজা দেয়া হয়নি। তখন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সঙ্গী মুসলমানরা কুরাইশদের একটি ব্যবসায়ী কাফেলা থেকে ধন মাল ছিনিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে রওয়ানা করেছিলেন। এক পর্যায়ে আল্লাহ্ তা’আলা (দৃশ্যত) অসময়ে মুসলমানদেরকে তাদের শত্রুদের সাথে যুদ্ধের মুখোমুখি করে দিলেন। আমরা আকাবার রাতে যখন ইসলামের উপর অবিচল থাকার দৃপ্ত শপথ নিয়েছিলাম, তখন আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গেই ছিলাম। যদিও বদরের যুদ্ধ লোকদের মধ্যে বেশি স্মরনীয় ঘটনা, তবুও আমি আকাবায় উপস্থিতির পরিবর্তে বদরের উপস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেয়া পছন্দ করিনা।
তাবুক যুদ্ধে আমার রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে না যাবার কারণটা হচ্ছে এই যে, এই যুদ্ধের সময় আমি যতটা ধনবান ও শক্তিশালী ছিলাম, ততটা আর কোন সময় ছিলাম না। আল্লাহর কসম! এই যুদ্ধের সময় আমার দু’টি উট ছিল; কিন্তু এর পূর্বে আর কখনও আমার একাধিক উট ছিল না। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে অন্য জায়গার কথা বলে প্রকৃত গন্তব্য স্থানের কথা গোপন রাখতেন। তিনি [রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] অত্যাধিক গরমের সময় তাবুক যুদ্ধে গমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। সফরটা ছিল দীর্ঘ পথের; অঞ্চলটা ছিল খাদ্য ও পানি শূন্য। তদুপরি, শত্রু সেনার সংখ্যাও ছিল অনেক বেশি। এসব কারণে তিনি মুসলমানদের কাছে এই যুদ্ধের কথা খোলাখুলি ব্যক্ত করলেন, যাতে করে সবাই যুদ্ধের জন্য সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন। তিনি সাহাবীদের তার ইচ্ছার কথা খোলাখুলি জানিয়ে দিলেন। অনেক মুসলিম যোদ্ধা এই যুদ্ধে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গী হলেন। তখনকার দিনে লোকদের নাম তালিকাভূক্ত করার জন্য কোন নির্দিষ্ট রেজিষ্ট্রী বই ছিল না। হযরত কা’ব (রা) বলেনঃ তখনকার দিনে যে ব্যক্তি যুদ্ধে (জিহাদে) অংশগ্রহণ না করে লুকিয়ে থাকতে চাইত, সে নিশ্চিতরূপে মনে করত যে, তার সম্পর্কে ওহী নাযিল না হওয়া পর্যন্ত তার অবস্থাটা গোপনই থাকবে। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আলোচ্য যুদ্ধের জন্য মদীনা থেকে রওয়ানা হলেন তখন গাছের ফল (খেজুর) পেকে গিয়েছিল এবং গাছ-গাছালির ছায়াও বেশ আরামদায়ক হয়ে উঠেছিল। আমি এ সবের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ছিলাম। যাহোক, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ যথারীতি যুদ্ধ প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেন। আমিও তার সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে সকালবেলা যেতাম বটে; কিন্তু কাজ না করেই বাড়ী ফিরে আসতাম এবং মনে মনে ভাবতাম যে, আমি ইচ্ছা করলেই এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারব। এভাবে টালবাহানা করতে করতে অনেকদিন কেটে গেল। এমনকি, লোকেরা যুদ্ধে যাবার জন্য সবরকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলল। অবশেষে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবী যোদ্ধাদের নিয়ে অতি প্রত্যুষে তাবুকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। কিন্তু আমি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য কোন প্রস্তুতিই গ্রহণ করিনি। তাই আমি প্রস্তুতি নিতে গেলাম। কিন্তু পরের দিনও আমি কিছুই করলাম না। এভাবে কিছুদিন আমার এই টাল বাহানা চলতে থাকল। অন্যদিকে মুসলিম যোদ্ধারা খুব দ্রুত এগিয়ে গেলেন এবং যুদ্ধও একেবারে কাছাকাছি এসে পড়ল। আমি তখন মনে মনে ভাবতাম, যেকোন মুহুর্তে রওয়ানা হয়ে গিয়ে ওদেরকে ধরে ফেলব। আহা! আমি যদি তা করতে পারতাম! কিন্তু তা আর আমার ভাগ্যেই জুটলনা। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা হয়ে যাবার পর আমি রোজকার মত মদীনার লোকদের মধ্যে চলাফেরা করতে লাগলাম। তখন যাদেরকে মুনাফিক বলে আখ্যায়িত করা হতো এবং যাদেরকে আল্লাহ্ দুর্বল ও অক্ষম বলে গণ্য করেছিলেন, সে ধরনের লোক ছাড়া আর কাউকে আমার মতো অবস্থায় দেখতে পতাম না।

তাবুক যাবার পথে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথা মনে করেননি। সেখানে পৌঁছেই তিনি লোকদের জিজ্ঞস করলেনঃ কা’ব ইবনে মালিকের কি হয়েছে? বনী সালেমার এক ব্যক্তি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তাকে তার দুই চাদর এবং শরীরের দুই পার্শ্বদেশের প্রতি নযর আটকে রেখেছে। (অর্থ্যাৎ, সে পোশাক-আশাক ও শরীর চর্চায় ব্যস্ত থাকার দরুন জিহাদে আসতে পারেননি)। একথায় হযরত মু’আয ইবনে জাবাল (রা) চমকে উঠে বললেনঃ তুমি যা বলেছো তা একদম ভুল কথা। আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসূলঃ আমরা তো তার সম্পর্কে ভালো ছাড়া খারাপ কিছুই জানি না। একথায় রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন। ঠিক এ সমসয় তিনি সাদা পোশাক ধারী এক ব্যক্তিকে মরুভূমির ভিতর দিয়ে এগিয়ে আসতে দেখলেন। তিনি বললেনঃ সে তো আবু খায়সামা! লোকটি কাছে আসতেই বুঝা গেল তিনি সত্যিই আবু খায়সামা আনসারী। আর খায়সামা হলেন সেই ব্যক্তি, যাকে মুনাফিকরা ঠাট্টা করেছিল এক সা’ পরিমাণ খেজুর সাদকা হিসেবে দান করেছিলেন বলে। হযরত কা’ব বলেনঃ আমি যখন তাবুক যুদ্ধে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেশে ফিরে আসার সংবাদ পেলাম, তখন খুব দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। আর তাই মিথ্যা অজুহাত খাড়া করার বিষয় ভাবতে লাগলাম। বার বার আমার মনে প্রশ্ন জাগলো এখন কোন কৌশল করলে আমি আমাকে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসন্তোষ থেকে রক্ষা করতে পারবো! আমার পরিবারে যারা বুদ্ধিমান ছিল, আমি তাদের সাহায্য চাইলাম। এরপর যখন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শীঘ্রই ফিরে আসছেন বলে জানতে পারলাম, তখন আমার মন থেকে সব আজেবাজে চিন্তা দূর হয়ে গেল। আমি স্পষ্টতঃ বুঝতে পারলাম যে, অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থবোধক কথা বলে আমি রেহাই পাবো না। তাই সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে আমি সত্য কথা বলারই দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করলাম।

পরদিন সকালে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় ফিরে এলেন। সাধারনত তিনি সফর থেকে ফিরে প্রথমে মসজিদে গিয়ে দু’রাকাত নামায আদায় করতেন, তারপর লোকদের মধ্যে আসন গ্রহণ করতেন। এই নিয়ম অনুসারে তিনি যখন মসজিদে বসলেন, তখন যারা তাবুক যুদ্ধে না গিয়ে মদীনায় অবস্থান করছিলো তারা কসম খেয়ে খেয়ে ওযর পেশ করতে লাগলো। এইরূপ লোকদের সংখ্যা ছিলো আশি জনের মতো। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রকাশ্য ওযর গ্রহণ করলেন। তাদের থেকে আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) গ্রহণ করলেন এবং তাদের গুনাহর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদের গোপন অবস্থা আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিলেন। এরপর আমি সামনে উপস্থিত হয়ে সালাম করলাম, তিনি মুচকি হাসি হাসলেন বটে, কিন্তু সে হাসিতে অসন্তুষ্টিই ঝরে পড়ছিলো। এরপর তিনি আমায় কাছে ডাকলেন। আমি তার সামনে গিয়ে বসলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ বলো, তোমার কি হয়েছিলো? তুমি কি কারণে পিছনে থেকে গিয়েছিলে? তুমি কি তোমার যানবাহন সংগ্রহ করতে পারনি? আমি (কা’ব) নিবেদন করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি আপনি ছাড়া কোন দুনিয়াদার লোকের সামনে বসা থাকতাম, তাহলে নিশ্চয়ই কোন অজুহাত খাড়া করে তার অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার পথ খুঁজতে পারতাম। যুক্তি বা অজুহাত খাড়া করার যোগ্যতাও আমার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি খুব ভাল করেই জানি যে, আজ আমি আপনাকে মিথ্যা কথা বললে আপনি আমার প্রতি সন্তষ্ট হবেন বটে, কিস্তু আল্লাহ্ নিশ্চই আপনাকে আমার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দিবেন। আর যদি আমি সত্য কথা বলার দরুন আপনি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হনও, তবুও আমি আল্লাহর নিকট শুভ ফলাফলের আশা রাখি। আল্লাহর কসম! আমার কোন ওযর ছিল না। আল্লাহর কসম! আমি আজকের মত আর কখনো এতটা মজবুত ও শক্তিশালী ছিলাম না। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই লোকটি সত্য কথাই বলেছে। আচ্ছা, তুমি চলে যাও। আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার ব্যাপারে কোন ফয়সালা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর।

এরপর বনু সালেমার কতিপয় লোক আমার পিছনে পিছনে চলতে লাগল। তারা আমায় বলতে লাগলঃ আল্লাহর কসম! এর আগে তুমি কোন অপরাধ করেছ বলে আমাদের জানা নেই। তুমি কেন অন্যান্য লোকদের মত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কোন ওযর পেশ করতে পারলে না? তোমার গুনাহ মার্জনার জন্য আল্লাহর মার্জনার কাছে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষমা চাওয়াইতো যথেষ্ট মনে হতো। এরা আমায় এতটা ভৎসনা করতে লাগলো যে, আমার রাসূলে আকরাম (সা)-এর কাছে ফিরে গিয়ে নিজেকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করার ইচ্ছা হলো। এরপর আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, আমার মত এরূপ ঘটনা আর কারো ক্ষেত্রে ঘটেছে কি না? তারা বললো হ্যাঁ, আরো দু’জনের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটেছে। তুমি যা কিছু বলেছ, তারাও ঠিক সেরকমই বলেছে। আর তোমাকে যা বলা হয়েছে, তাদেরকেও সে কথাই বলা হয়েছে। হযরত কা’ব (রা) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ সে দু’জন কারা? লোকেরা বলল, তারা হলেন মুরারা ইবনে রাবীআ ‘আমেরী ও হেলাল ইবনে উমাইয়া ওয়াফেকী (রা)।

হযরত কা’ব (রা) বলেনঃ লোকেরা আমায় যে দুই ব্যক্তির নাম বলল, তারা ছিলেন খুবই আদর্শবান ও সৎকর্মশীল; তারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কা’ব আরো বলেনঃ লোকেরা ঐ দু’জন সম্পর্কে খবর দিলে আমি আমার পূর্বেকার নীতির উপর অবিচল থাকলাম।

যারা পিছনে থেকে গিয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে আমাদের তিন জনের সাথে কথা বলতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে বারন করে দিলেন। এরপরে আশে পাশের সব লোক আমাদের থেকে দূরে সরে থাকতে লাগল। (অর্থ্যাৎ আমাদের ব্যাপারে তাদের মনোভাব একেবারে বদলে গেল) এমনকি, আমার জন্য দুনিয়ার চেহারাটাই একেবারে পাল্টে গেল। আমার চেনা জানা পৃথিবী হঠাৎ যেন অপরিচিত হয়ে গেল। এভাবে আমরা পঞ্চাশটি দিন অতিবাহিত করলাম। আমার দু’জন সঙ্গী নিজেদের ঘরেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়লেন। তারা ঘরে বসে কেঁদে কেঁদে সময় কাটাতে লাগলেন। (কারণ তারা উভয়েই বয়োবৃদ্ধ ছিলেন); কিন্তু আমি ছিলাম যুবক ও শক্তিমান। তাই আমি বাইরে গিয়ে সাধারণ মুসলমানদের সাথেই নামায পড়তাম এবং হাট-বাজারেও নির্দ্বিধায় চলাফেরা করতাম। কিন্তু অবাক হয়ে দেখতাম, কেউ আমার সাথে কথা বলছে না। নামাযের সময় রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট স্থানে বসলে আমি তাঁকে সালাম করতাম এবং এই ভেবে অপেক্ষা করতাম, দেখি তিনি সালামের জবাব দিতে ঠোঁট নাড়েন কিনা। মসজিদে আমি তাঁর কাছাকাছি নামায পড়তাম এবং চুপিসারে লক্ষ্য রাখতাম, তিনি আমার  দিকে তাকান কিনা। আমি যখন নামাযে লিপ্ত থাকতাম তখন তিনি আমার দিকে তাকাতেন। কিন্তু আমি যখন তাঁর দিকে তাকাতাম তিনি আমার দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিতেন। এভাবে গোটা মুসলিম সমাজে নির্লিপ্ততার দরুন আমার এ অবস্থা যখন দীর্ঘায়িত হলো, তখন একদিন আমি প্রতিবেশি আবু কাতাদার দেয়ালের ভেতরে ঢুকে তাকে সালাম দিলাম; কিন্তু আল্লাহর কসম! সে আমার সালামের কোন জবাব দিল না। অথচ সে ছিল আমার চাচাতো ভাই এবং ঘনিষ্টতম বন্ধু। আমি তাকে বললামঃ আবু কাতাদাহ্! আমি তোমায় আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তুমি কি জানো না যে, আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি? সে যথারীতি চুপ থাকলো আমি আবার তাকে কসম খেয়ে জিজ্ঞস করলাম। এবারও সে চুপ থাকলো। আমি পুনরায় কসম দিলে সে কেবল এতটুকু বলল, আল্লাহ্ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তার এ কথায় আমার এ চোখ দিয়ে দর দর বেগে অশ্রু বেরিয়ে এল। আমি দেয়াল ডিঙিয়ে ফিরে এলাম।

এরপর একদিন আমি মদীনার বাজারে ঘোরাফেরা করছিলাম। এমন সময় মদীনায় খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করতে আগত এক সিরীয় কৃষক আমায় খুঁজতে লাগল। সে লোকদের কাছে এই মর্মে অনুরোধ করছিলো যে, আমাকে কা’ব বিন মালিকের ঠিকানাটা একটু বলে দিন। এর জবাবে লোকেরা আমার দিকে ইঙ্গিত করল। সে আমার কাছে এসে আমায় গাস্‌সানের বাদশাহ্‌র একটি চিঠি দিল। আমি চিঠিখানা আদ্যপান্ত পড়লাম। তাতে লেখা ছিলঃ আমি জানতে পারলাম যে, তোমার সাথী (রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমার উপর যুলুম-পীড়ন চালাচ্ছে। অথচ আল্লাহ্ তোমায় লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবার জন্য সৃষ্টি করেননি। কাজেই তুমি আমাদের কাছে চলে এস। ‘আমরা তোমায় সর্বোত্তমভাবে সাহায্য করব’। আমি চিঠিখানা পড়ে বললাম এটাও আমার জন্য এক পরীক্ষা। আমি অবিলম্বে চিঠিখানা আগুনে পুড়িয়ে ফেললাম।

এভাবে পঞ্চাশ দিনের মধ্যে চল্লিশ দিন অতিক্রান্ত হল। এরমধ্যে আর কোন ওহীও নাযিল হল না। হঠাৎ একদিন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক বার্তা বাহক এসে আমায় জানালো, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আমার স্ত্রী থেকে আলাদা থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি জানতে চাইলাম, আমি কি তাকে তালাক দেব নাকি অন্যকিছু করব? বার্তা বাহক জানালোঃ না, তুমি শুধু তার থেকে আলাদা থাকবে, তার ঘনিষ্ট হবে না। (অর্থ্যাৎ তার সাথে দৈহিক মিলন করবে না)। আমার অন্য দু’জন সঙ্গীকেও অনুরূপ বার্তা পাঠানো হল। আমি স্ত্রীকে বললাম, তুমি অবিলম্বে পিত্রালয়ে চলে যাও এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোন ফয়সালা না আসা পর্যন্ত তাদের সাথেই থেক। হেলাল ইবনে উমাইয়ার স্ত্রী রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে নিবেদন করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! হেলাল ইবনে উমাইয়া খুবই বৃদ্ধ মানুষ; তার দেখাশুনার জন্য কোন খাদেম নেই। আমি তার দেখাশুনা করলে আপনি কি অসন্তুষ্ট হবেন? রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘না, তবে সে যেন তোমার সাথে দৈহিক মিলনে রত না হয়’। ইবনে উমাইয়ার স্ত্রী বললেন আল্লাহর কসম! এ ব্যাপারে তার কোন শক্তিই নেই। আল্লাহর কসম! আজ পর্যন্ত তার ব্যাপারে যা কিছু ঘটেছে তাতে সে অবিরাম কেঁদে চলেছে। (কা’ব বলেন) আমার পরিবারের অন্য সদস্য আমায় বলেনঃ ‘তুমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তোমার স্ত্রীর সেবা (খেদমত) গ্রহণের ব্যাপারে অনুমতি নিতে পারতে। তিনি তো হেলাল ইবনে উমাইয়ার সেবা করার জন্য তার স্ত্রীকে অনুমতি দিয়েছেন।’ আমি বললামঃ আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এ বিষয়ে কোন অনুমতি চাইব না। কে জানে, এ বিষয়ে তার কাছে অনুমতি চাইলে তিনি কি বলেন। তাছাড়া আমি হচ্ছি একজন যুবক। এভাবে আরও দশদিন অতিবাহিত করলাম।

আমদের সাথে কথা বলা নিষিদ্ধ ঘোষণার পর পুরো পঞ্চাশ দিন অতিক্রান্ত হল। একদিন ভোরে ফজরের নামায আদায় করে আমি আমার ঘরের ছাদে এমন অবস্থায় বসা ছিলাম, যে অবস্থার দরুন আল্লাহ্ তা’আলা কুরআন মজীদে আমাদের সম্পর্কে বলেছেনঃ আমার মন ক্ষুদ্র হয়ে গেছে এবং ধরিত্রি প্রশস্ত হওয়া সত্বেও আমার জন্য তা সংকীর্ণ হয়ে গেছে।

একদিন আমি এরূপ অবস্থায় বসে আছি, এমন সময় হঠাৎ আমি সাল্‌আ পাহাড়ের উপর থেকে এক ব্যক্তির (আবু বকর সিদ্দীক) চিৎকার শুনতে পেলাম। তিনি খুব চড়া গলায় বলতে লাগলেনঃ হে কা’ব! তোমাকে মোবারকবাদ, তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর’। আমি এ কথা শুনামাত্র সিজদায় পড়ে গেলাম এবং বুঝতে পারলাম যে, আমাদের মুক্তির বার্তা এসেছে। আল্লাহ্ আমাদের তওবা কবুল করেছেন, এই সুসংবাদ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযবাদ সমস্ত লোককে জানিয়ে দিলেন। এতে উৎসাহিত হয়ে লোকেরা আমাদের সুসংবাদ দিতে এল। অন্যদিকে কতিপয় লোক আমার দু’জন সঙ্গীকে সুসংবাদ দিতে গেল। অপর এক ব্যক্তি (যুবাইর ইবনে আওয়াম) ঘোড়ায় চেপে আমার দিকে ছুটে এল। আস্‌লাম গোত্রের এক ব্যক্তি (হাম’যা ইবনে উমর আল আস্‌লামী) ছুটতে ছুটতে পাহাড়ের উপর গিয়ে উঠল। তার আওয়াজ ছিল ঘোড়ার চেয়ে বেশি দ্রুতগামী। যে ব্যক্তি আমায় সুসংবাদ দিচ্ছিল, তার আওয়াজ শুনামাত্র আমি (আনন্দের আতিশয্যে) নিজের দু’প্রস্তু কাপড় খুলে তাকে পরিয়ে দিলাম। আল্লাহর কসম! সেদিন ঐ দু’প্রস্থ কাপড় ছাড়া আমার আর কোন পোশাক ছিল না। তাই আমি আরও দু’খানা কাপড় ধার করে নিলাম এবং তা পরেই রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। পথিম্যেধই লোকেরা দলে দলে এসে আমার সাথে সাক্ষাত করে তওবা কবুলের জন্য আমায় মোবারকবাদ জানাতে লাগল। তারা আমায় বলতে লাগল, আল্লাহ্ তোমার তওবা কবুল করেছেন বলে তোমাকে আন্তরিক মোবারকবাদ। শেষ পর্যন্ত আমি মসজিদে (নববীতে) প্রবেশ করলাম। তখন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বসা ছিলেন; লোকেরা ছিল তাঁর চারদিক পরিবেষ্টন করে। হঠাৎ তাল্‌হা ইবনে উবায়দুল্লাহ্ (রা) খুব দ্রুত ছুটে এসে আমার সাথে সজোরে করমর্দন করে আমায় মোবারকবাদ জানালেন। আল্লাহর কসম! তাল্‌হা ছাড়া এভাবে আর কোন মুহাজির উঠে আসেননি। (বর্ণনাকারী বলেনঃ) এজন্য হযরত কা’ব (রা) হযরত তাল্‌হা (রা) এর এই ব্যবহার কোনদিন ভুলেননি।

হযরত কা’ব (রা) বলেনঃ আমি যখন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিলাম, তখন তাঁর মুখমন্ডল আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল। তিনি বললেনঃ তোমার জন্মদিন থেকে শুরু করে এ পর্যন্তকার সবচাইতে উত্তম দিনের খোশ-খবর গ্রহণ কর।’ আমি জানতে চাইলামঃ এ সুসংবাদ আপনার তরফ থেকে না আল্লাহর তরফ থেকে হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ ‘না, আমার থেকে নয়; বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে’। বস্তুত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন ব্যাপারে আনন্দিত হতেন, তাঁর চেহারা যেন এক টুকরো চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে উঠত। তাঁর চেহারার এই পরিবর্তনটা আমরা বুঝতে পারতাম। এরপর আমি যখন তাঁর সামনে বসলাম, তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার তওবা কবুল হওয়ায় আমার সমস্ত ধনমাল আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য সাদকা করে দিতে চাই।’ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘কিছু মাল তুমি নিজের জন্য রেখে দাও; এটাই তোমার জন্য উত্তম।’ আমি বললামঃ ‘বেশ, তাহলে আমার খায়বরের অংশটা রেখে দিলাম।’ আমি আরো নিবেদন করলামঃ ‘হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ আমায় সত্য কথা বলার দরুন রেহাই দিয়েছেন। কাজেই আমার তওবার এও দাবী যে, বাকী জীবনে আমি কেবল সত্য কথাই বলে যাব।’

আল্লাহর কসম! আমি যখন এ কথাগুলো রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বলেছিলাম, তখন থেকে সত্যের ব্যাপারে আল্লাহ্ অন্য কোন মুসলিমকে আমার মত এমন চমৎকারভাবে পরীক্ষা করেছেন বলে আমার জানা নেই। আল্লাহর কসম! তখন থেকে আজ পর্যন্ত আমি কোন মিথ্যা বলার অভিপ্রায় করিনি। অবশিষ্ট জীবনেও আল্লাহ্ আমাকে মিথ্যার অভিশাপ থেকে রক্ষা করবেন বলে আশা পোষণ করি। তিনি বলেন, এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ বিশেষ আয়াত নাযিল করেছেন। তাতে বলা হয়েছেঃ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ নবী, মুহাজির ও আনসারদের তওবা কবুল করেছেন। তিনি তাদের প্রতি দয়াশীল ও মেহেরবান। আর যে তিনজন পেছনে থেকে গিয়েছিল, তাদের তওবাও তিনি কবুল করেছেন। এমনকি শেষ অবধি এ দুনিয়া প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। ….. আল্লাহকে ভয় করে চল এবং সত্যনিষ্ঠদের সঙ্গে থাক।’ (সূরা তওবাঃ ১১৭-১১৯ আয়াত)

হযরত কা’ব আরো বলেনঃ আল্লাহর কসম! আল্লাহ্ যখন থেকে আমায় ইসলাম গ্রহণের তওফীক দিয়েছেন, তখন থেকে এ পর্যন্ত আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সত্য কথাই বলে আসছি এবং এটা আমার জন্য আল্লাহর সবচাইতে বড় নে’আমত। (আল্লাহর কাছে আমার প্রার্থনা) আমি যেন মিথ্যা কথা বলে ধ্বংসপ্রাপ্ত না হই, যেমন করে অন্যান্য মিথ্যাবাদীরা ধ্বংস হয়ে গেছে। আল্লাহ্ অহী অবতরনের যুগে মিথ্যাবাদীরা সবচাইতে বেশি নিন্দা করেছেন। সূরা তওবায় তিনি বলেনঃ তোমরা যখন তাদের কাছে ফিরে যাবে, তখন তারা আল্লাহর কসম খেয়ে তোমাদের সামনে ওযর পেশ করবে। যেন তোমরা তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না কর। যাহোক, তাদেরকে তুমি ছেড়েই দাও। তারা মূলতঃ অপবিত্র আর (তাই) তাদের স্থান হবে জাহান্নাম। এটা হলো তাদের কৃতকর্মের ফসল। তারা তোমাদেরকে খুশি করার জন্য তোমাদের নিকট হলফ করে মিথ্যা অজুহাত পেশ করবে। তোমরা তাতে ওদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেও আল্লাহ্ কিছুতেই এহেন ফাসেকদের প্রতি সন্তুষ্ট হন না। (সূরা তওবাঃ ৯৫-৯৬)
হযরত কা’ব আরো বলেনঃ যারা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হলফ করে মিথ্যা অজুহাত পেশ করেছিল, তিনি তাদের ওজুহাত গ্রহণ করে তাদের থেকে বাইয়াত নিয়েছিলেন এবং তাদের গুনাহ মার্জনার জন্য দো’আও করেছিলেন। কিন্তু আমাদের তিনজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণটা পিছিয়ে দিলেন। অবশেষে মহান আল্লাহ্ বিষয়টির নিস্পত্তি করে দিলেন। আল্লাহ্ যে বলেছেন, ‘আর যে তিনজন পেছনে থেকে গিয়েছিল’ এর অর্থ জিহাদ থেকে আমাদের পেছনে থাকা নয়; বরং এর অর্থ হলো, যারা মিথ্যা অজুহাত পেশ করেছিল এবং রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা কবুল করেছিলেন। আমাদের ব্যাপারটা তাদের পরে রাখা হয়েছিল। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
অপর এক বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহস্পতিবার তাবুক যুদ্ধের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। কেননা, তিনি বৃহস্পতিবার সফরে যাওয়া পছন্দ করতেন। অপর এক রেওয়ায়েতে বলা হয়েছেঃ তিনি সাধারনতঃ দিনের বেলা দুপুরের পূর্বে সফর থেকে ফিরতেন এবং সফর থেকে ফিরেই প্রথমে তিনি মসজিদে যেতেন। এরপর সেখানে দু’রাকা’আত নামাজ পড়তেন এবং তারপর বসতেন।
[বুখারী: ৬/৩ (৪৪১৮), মুসলিম: ৮/১০৫ (২৭৬৯) (৫৩) (৫৪) (৫৫)]

22- وَعَنْ أبي نُجَيد – بضَمِّ النُّونِ وفتحِ الجيم – عِمْرَانَ بنِ الحُصَيْنِ الخُزَاعِيِّ رضي الله عنهما : أنَّ امْرَأةً مِنْ جُهَيْنَةَ أتَتْ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم وَهِيَ حُبْلَى مِنَ الزِّنَى ، فقالتْ : يَا رسولَ الله ، أصَبْتُ حَدّاً فَأَقِمْهُ عَلَيَّ ، فَدَعَا نَبيُّ الله صلى الله عليه وسلم وَليَّها ، فقالَ :
(( أَحْسِنْ إِلَيْهَا ، فإذا وَضَعَتْ فَأْتِني )) فَفَعَلَ فَأَمَرَ بهَا نبيُّ الله صلى الله عليه وسلم ، فَشُدَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا، ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَرُجِمَتْ، ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا. فقالَ لَهُ عُمَرُ: تُصَلِّي عَلَيْهَا يَا رَسُول الله وَقَدْ زَنَتْ ؟ قَالَ: (( لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ قُسِمَتْ بَيْنَ سَبْعِينَ مِنْ أهْلِ المَدِينَةِ Uلَوَسِعَتْهُمْ، وَهَلْ وَجَدْتَ أَفضَلَ مِنْ أنْ جَادَتْ بنفْسِها لله  ؟! )) رواه مسلم .
[أخرجه : مسلم 5/120 ( 1696 )]

২২. হযরত ‘ইমরান ইবনে হোসাইন আল খুজা’ঈ (রা) বর্ণনা করেন, জোহাইনা গোত্রের জনৈক মহিলা ব্যভিচারের মাধ্যমে গর্ভবতী হয়ে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে নিবেদন করলঃ ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি ব্যভিচারের (যিনার) অপরাধ করেছি; আমাকে শাস্তি দিন। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবককে ডেকে বললেনঃ ‘এর সঙ্গে সদাচরণ করবে। এ সন্তান প্রসব করার পর আমার নিকট নিয়ে আসবে’। লোকটি তা-ই করল। এরপর রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ব্যভিচারের শাস্তি প্রদানের নির্দেশ দিলেন। তার শরীরের কাপড়-চোপড় ভাল করে বেঁধে দেওয়া হল এবং নির্দেশ মোতাবেক তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হলো। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাজার নামাজও পড়লেন। হযরত উমর (রা) তাঁকে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এই মেয়েটি তো ব্যভিচার (যিনা) করেছে। তবুও আপনি এর জানাযার নামাজ পড়াচ্ছেন। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ মেয়েটি এমন তওবা করেছে যে, তা চল্লিশ জন মদীনা বাসীর মধ্যে বন্টন করে দিলেও সবার জন্য পর্যাপ্ত হয়ে যেত। যে মেয়েটি নিজের জীবনকে মহান আল্লাহর জন্য স্বেচ্ছায় বিলিযে দিতে পারে, তার এহেন তওবার চেয়ে ভাল কোন কাজ তোমার জানা আছে কি?
[মুসলিম: ৫/১২০ (১৬৯৬)]

23- وعن ابنِ عباسٍ رضي الله عنهما أنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم ، قَالَ : (( لَوْ أنَّ لابنِ آدَمَ وَادِياً مِنْ ذَهَبٍ أحَبَّ أنْ يكُونَ لَهُ وَادِيانِ ، وَلَنْ يَمْلأَ فَاهُ إلاَّ التُّرَابُ ، وَيَتْوبُ اللهُ عَلَى مَنْ تَابَ )) مُتَّفَقٌ عليه .
[أخرجه : البخاري 8/115 ( 6436 ) ، ومسلم 3/100 ( 1049 )]

২৩. হযরত ইবনে আব্বাস ও আনাস ইবনে মালিক (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘যদি কোন ব্যক্তির কাছে এক উপত্যকা পরিমাণ সোনাও থাকে, তবে সে তাকে দু’টি উপত্যকায় পরিণত হওয়ার আকাংখা পোষণ করবে। আসলে তার মুখ মাটি ছাড়া আর কিছুতেই পূর্ণ হয় না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তওবা করে, আল্লাহ্ তার তওবা কবুল করেন।’
[বুখারী: ৮/১১৫ (৬৪৩৬), মুসলিম: ৩/১০০ (১০৪৯)]

24-  أنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم ، قَالَ : ((tوعن أبي هريرة  يَضْحَكُ اللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى إِلَى رَجُلَيْنِ يقْتلُ أَحَدهُمَا الآخَرَ يَدْخُلانِ الجَنَّةَ ، يُقَاتِلُ هَذَا في سَبيلِ اللهِ فَيُقْتَلُ ، ثُمَّ يتُوبُ اللهُ عَلَى القَاتلِ فَيُسْلِم فَيُسْتَشْهَدُ )) مُتَّفَقٌ عليه .
[أخرجه : البخاري 4/28 ( 2826 ) ، ومسلم 6/40 ( 128 ) و( 129 )]

২৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করে, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ সুবহানাহু এমন দুই ব্যক্তির প্রতি হাসবেন, যাদের একজন অপর জনকে হত্যা করবে এবং উভয়েই জান্নাতে যাবে। তাদের একজন আল্লাহর পথে লড়াই করে শহীদ হবে। তারপর আল্লাহ্ হত্যাকারীর তওবা কবুল করবেন এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে (জিহাদে) শাহাদাত লাভ করবে। ১*
[বুখারী: ৪/২৮ (২৮২৬), মুসলিম: ৬/৪০ (১২৮) (১২৯)]
১* হাদীসে বর্নিত প্রথম ব্যক্তি স্বাভাবিক নিয়মেই শহীদ হিসেবে জান্নাত লাভ করবে। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রথম ব্যক্তির হত্যাকারী হলেও পরে ইসলাম গ্রহণের দরুন তার পূর্বেকার অপরাধ মাফ হয়ে যাবে এবং সে জান্নাতে অধিবাসী হবে। – অনুবাদক

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s