Category Archives: ছোট গল্প

রেজাউলের অভিমান

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

tofazzal

তোফাজ্জল হোসাইন ##
রেজাউলের মন ভালো নেই। কারো সাথে কোন কথা নেই। নাস্তা না খেয়েই কোন মতো বই ব্যাগ গুছিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হল। রেজাউলের আম্মু আড়ালে দাঁড়িয়ে সবকিছুই দেখলেন। খুশি হলেন ছেলের উপর। যাক, এতদিনে নিজের কাজ নিজেই করা শিখেছে। বুঝতে শিখেছে। তার মানে সে বড় হচ্ছে। পাশাপাশি একটু চিন্তায়ও পড়ে গেলেন তিনি। ছেলের মনটা অমন থমথমে কেনো?  আজ সকালে উঠে কারোর সাথে একটা Read the rest of this entry

সুন্দরবনে শিয়াল পন্ডিত ও বাঘ

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

সুন্দরবনে শিয়াল পন্ডিত ও বাঘ
‘বনের পন্ডিত’ খ্যাত শিয়াল আজ বাঘের গুহার সামনে হাজির হয়েছে। সে ভাবছে বাঘ মামাকে ডাকবে নাকি! কারন সারারাত শিকার করে এখন বাঘের ঘুমানোর সময়। তবে বনের ভেতর বাঘের সাথে সবচেয়ে বেশি খাতির হলো শিয়ালেরই!! সেই সাহসেই সে এসেছে বাঘকে ডাকতে!!!

তো শিয়াল বুকে সাহস সঞ্চয় করে হাঁক দিলো, “মামা! ও মামা! জেগে আছো নাকি?”

ভেতর থেকে গমগম সরে আওয়াজ আসলো, “কে রে? কে ডাকে?”

– আমি মামা!! তোমার একমাত্র ভাগ্নে!!! Read the rest of this entry

রোজার গল্প : মুনিয়ার রোজা

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

লিখেছেন জুবায়ের হুসাইন

মুনিয়ার মন ভালো নেই।
সকাল থেকেই মুখটা কেমন থমথমে। যেনো কালবোশেখীর যতো মেঘ এসে জমা হয়েছে ওর চেহারায়।
সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজে নিজে দাঁত ব্রাশ করলো। স্কুলের ড্রেস পরে বই-খাতা গুছিয়ে ব্যাগে ভরে একা একাই স্কুলে রওনা দিলো, যেটা আগে কখনোই ঘটেনি।
আম্মু আড়ালে দাঁড়িয়ে সবকিছুই দেখলেন। খুশি হলেন মেয়ের উপর। যাক, এতদিনে নিজের কাজ নিজেই করা শিখেছে। বুঝতে শিখেছে। তারমানে মেয়ে বড় হচ্ছে। পাশাপাশি একটু চিন্তায়ও পড়ে গেলেন তিনি। মেয়ের মুখটা অমন থমথমে কেনো? সকালে উঠে কারোর সাথে একটা কথাও পর্যন্ত বলেনি। Read the rest of this entry

পথপানে (ছোটগল্প)

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

জুবায়ের হুসাইন

খবরটা শুনে প্রথমে কোনোই রিঅ্যাকশন হলো না ওর। পাক্কা ত্রিশ সেকেন্ড নিষ্পলক তাকিয়ে রইল সংবাদদাতার মুখের দিকে। তারপরই যেন প্রচণ্ড ঝড় বয়ে গেল, লণ্ডভণ্ড করে দিল সবকিছু। ‘আল্লাহগো!’ বলে একটা আর্তনাদ ছুড়ে দিল বাতাসে। সে আর্তনাদ দীর্ঘায়িত হয়ে ইথারে ভর করে ছড়িয়ে গেল অনেক দূর পর্যন্ত। ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে এলেন সকিনা বেগম।
জামসেদ তখন ছুট দিয়েছে, পেছনে ছুটছে সংবাদদাতাও।

সকিনা বেগম কিছুই বুঝতে পারলেন না। বুঝতে পারলেন না ছেলের আর্তনাদের কারণ, কিংবা তার ওভাবে ছুটে যাওয়ার বিষয়ও। কাউকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেয়ার মতোও কেউ তখন নেই সেখানে। কী এক অজানা আশঙ্কায় ভরে উঠল তার দেহ-মন। কেমন অসাড় একটা অনুভব দেহের সমস্ত পেশিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
কী করবেন তিনি এখন? ছেলে যেদিকে গেছেন সেদিকে যাবেন? না কি অপেক্ষা করবেন তার ফিরে আসার। অথবা একটু এগিয়ে যাবেন, জানার চেষ্টা করবেন ঘটনা কী।
সিদ্ধান্ত নিতে নিতেই কয়েক মিনিট কেটে গেল। শেষে এগিয়ে যাবারই সিদ্ধান্ত নিলেন। Read the rest of this entry

পথের বাঁকে (গল্প)

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

জুবায়ের হুসাইন

শামসুল হকের মনটা হঠাৎ করে খারাপ হয়ে গেছে। তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না কেনো তার মনটা খারাপ হলো। অথচ যে কারণে মন খারাপ, সেটা বড় কোনো বিষয় নয়।

অফিস শেষে বাসে করেই বাড়ি ফিরছেন তিনি। প্রতিদিনকার মতো আজও বাস থেকে নামলেন। এখান থেকে তার বাসা রিকসায় করে গেলে আট টাকা ভাড়া। কিন্তু তিনি কোনোদিনই এই আট টাকা খরচ করেননি। এটাকে তিনি বেহুদা খরচ মনে করেন। অর্থাৎ পায়ে হেঁটেই পাড়ি দেন পথটুকু। অবশ্য মাথার উপর একটা ছাতা মেলানো থাকে কী বর্ষা, কী রোদ সবসময়।

পড়ন্ত এই বিকেলে রোদের তেজ না থাকলেও ছাতা বন্ধ করেননি তিনি। হয়ত বা খেয়ালও করেননি যে এখন ছাতা না মেলিয়েও নিশ্চিন্তে পথ পাড়ি দেয়া যায়। দীর্ঘদিনের অভ্যাস বলেই কথা। Read the rest of this entry

বৃষ্টিভেজা কান্না (ছোটগল্প)

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

জুবায়ের হুসাইন

সাঁই করে একটা শব্দ হলো। কানের ওপরের চুলগুলো কেমন একটু নড়ে উঠল। কিছুটা বাতাস ওর ঘাড়ের খোলা জায়গাটিতেও লাগল। ফুলপ্যান্টের নিচটাও দুলে উঠল।
পাই করে বামে তাকাল। একটা সাদা মাইক্রো তীরবেগে ছুটে যাচ্ছে। বেশ বড়সড় মাইক্রোটা। আরেকটু হলেই ওর গায়ের উপর দিয়ে চলে যেত যন্ত্রদানবটা। কিন্তু কোত্থেকে উদয় হলো হঠাৎ ওটা? ও তো ভালো করে দেখেই তবে রাস্তা পার হচ্ছিল।

আসলে ওর নজর ছিল রোড ডিভাইডারের ওপাশের গাড়িগুলোর ওপর। এপাশে তখন কোনো যান ছিল না। তাই এপাশে বেশি গুরুত্ব দেয়নি। ওপাশে ট্রাফিক সিগনাল পেয়ে গাড়িগুলো থেমে যেতেই ও পা বাড়িয়েছিল রাস্তা পার হওয়ার জন্য। রোড ডিভাইডারের ওখানে চলে এসেছিল ও। এই সময় পেছন দিয়ে চলে যায় মাইক্রোটা।
Read the rest of this entry

রক্ত (ছোট গল্প)

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

জুবায়ের হুসাইন

প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে সলিম আলীর। বুকের মধ্য হতে হৃৎপিণ্ডটা ঠেলে বের হয়ে আসতে চাইছে। অনেক কষ্টে এতক্ষণ কাশির বেগটা সামাল দিয়েছেন। এখন আর পারছেন না। হাত দু’টো চরম বিরোধিতা করতে চাইছে। হাতের মধ্যে রিকসার হ্যান্ডেল দু’টো পিছলে যাওয়ার আগে রিকসাটা রাস্তার বাঁ-পাশ ঘেষে দাঁড় করালেন। তারপর সিট থেকে নিমে বসে পড়লেন মাটিতে। বুকে গলার কাছটায় এক হাত আর মাথার উপর এক হাত নিয়ে গেলেন। কাশতে লাগলেন ‘খক খক’ করে। সে কী কাশির দমক!

কাশি এখন থেমে গেছে। কিন্তু সলিম আলী একইভাবে বসে রইলেন। দু’চোখে বিস্ময়। বরং একটু আতঙ্কও ফুটে উঠল সেখানে। তাকিয়ে আছেন সামনে, মাটিতে। একটু আগে কাশির কফ তিনি ওখানেই ফেলেছেন। সাদা গ্যাঁজলা ধরনের কফের মাঝে লালের আভা ফুটে উঠেছে। গতকালও কাশির সাথে ওটা ছিল। তবে তখন ওটার পরিমাণ সীমাবদ্ধ ছিল ফোটা ফোটার মধ্যেই। কিন্তু এখন তিনি যা দেখতে পাচ্ছেন তাতে চোখজোড়া ছানাবড়া হয়ে যাওয়ারই কথা। Read the rest of this entry