Category Archives: Uncategorized

দারসুল হাদিস

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

 

অনুবাদ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও এহতেসাবের সাথে রমজানের রোজা পালন করবে আল্লাহ তার পূর্বের সকল অপরাধ ক্ষমা করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি ঈমান ও এহতেসাবের সাথে লায়লাতুল কদরের রাত্রে দণ্ডায়মান হয়ে ইবাদত করবে তারও আল্লাহ পূর্বের গুনাহ-খাতা মাফ করে দিবেন। (সহীহ আল বুখারী) Read the rest of this entry

শিরককে ভয় করা

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সুলায়মান আত-তামিমি(রাহিমাহুল্লাহ) | মুদ্রলেখক: মনজুর আহ্‌মদ

আল্লাহ্‌র বাণী-

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ

অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাঁর সাথে অংশীদার করার পাপ ক্ষমা করেন না তা ব্যতীত যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন”।১ (সূরা নিসা: ৪৮) Read the rest of this entry

ইন দা আরলি আওয়ার্সঃ রিফ্লেকশন অন স্পিরিচুয়াল এন্ড সেলফ ডেভেলপমেন্ট//২

আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

 অনুবাদ: ফয়সাল তারিক   মূল: খুররম মুরাদ

আপনার মিশন

জান্নাত পাওয়ার লক্ষ্যে আপনার প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার পরে আপনি নিজেকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, সাফল্য অর্জনের জন্য আল্লাহ আমার কাছে কি কি চান?

কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী আল্লাহ চান আপনি মুমিন ও মুজাহিদ হন। মুমিন হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি আল্লাহর প্রতি প্রকৃত ও দৃঢ় বিশ্বাস পোষন করেন। আর মুজাহিদ হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি তার সবকিছু দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালান। আপনি যদি মুমিন ও মুজাহিদ হন, তাহলে সর্বশক্তিমান ও দয়াময় আল্লাহতায়ালা আপনাকে পার্থিব ও পরকালীন- উভয় জীবনেই সন্মানিত হতে সাহায্য করবেন। যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আল্লাহর রাস্তায় তৎপর তাদেরকে সাহায্য করার ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা কোরআনে প্রতিজ্ঞা করেছেনঃ

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ أُولَٰئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ.

‘প্রকৃত ঈমানদার তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ওপর ঈমান এনেছে এবং এ ব্যাপারে পরে আর কোন সন্দেহ পোষণ করেনি৷ তারপর প্রাণ ও অর্থ-সম্পদ দিয়ে জিহাদ করেছে৷ তারাই সত্যবাদী৷’ (৪৯:১৫)

সুতরাং, এখন থেকে আপনার একটা মিশন আছে- মুমিন ও মুজাহিদ হওয়ার মিশন। আপনি যখন এই মিশন শুরু করবেন তখন হয়তো অনুভব করবেন যে ইসলাম সম্পর্কে আপনার জ্ঞান কিছুটা সীমিত। অথবা সমর্পন ও পরিশুদ্ধির যে মান আপনি নিজের ভিতরে চান বা মানুষ আপনার কাছে আশা করে, সেই মানে আপনি পৌঁছাতে পারছেন না। এরকম মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার অনুভুতি যেন কখনই আপনার ইসলাম চর্চার চেষ্টাকে ব্যহত না করে। মনে রাখবেন, ইসলাম অকস্মাত হয়ে যাওয়ার বিষয় নয় বরং নিরন্তর হওয়ার চেষ্টা করার বিষয় (is a state of becoming not a state of being)। প্রত্যেকদিন আপনি যদি মানোন্নয়নের চেষ্টা চালান তাহলে দেখবেন যে আপনার ক্রমশঃ উন্নতি হচ্ছে।

‘তাজকিয়া’ অথবা আত্মশুদ্ধির এই নতুন যে প্রোগ্রামে আপনি অংশ নিচ্ছেন তা ‘তাজকিয়া’র বিভিন্ন দিক গুলোকে আপনার কাছে পর্যায়ক্রমে উন্মোচন করবে। আপনি একদিনেই সব বদলে ফেলার আশা করতে পারেন না। এটা সম্পুর্ণ প্রকৃতিবিরুদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবীদের প্রশিক্ষনের সময় এ ব্যাপারে সবসময় সচেতন ছিলেন। যখন কেউ ইসলাম গ্রহন করত, তখন তিনি সাথে সাথেই তাকে সব কিছু করতে বলতেন না। বরং তাকে ততটুকুই শেখাতেন যতটুকু সে একেবারে গ্রহন ও পালন করতে পারবে বলে

তিনি মনে করতেন। এই ক্রম পরিবর্তন প্রক্রিয়া কোরআনের দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে নাজিল হওয়ার সাথেও সামঞ্জস্যপুর্ণ।

আপনার আরও ভালো বিশ্বাসী (ইমানদার) হওয়ার প্রচেষ্টায় এই ক্রমোন্নয়নের নীতি সবসময় মনে রাখবেন। না হলে যা অসম্ভব তা অনর্থক অর্জনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে পারেন এবং ফলশ্রুতিতে হতাশা আপনাকে গ্রাস করতে পারে।

এ পর্যায়ে আপনার কাজ হচ্ছে নিজের বিশ্বাসকে সুদৃঢ় রাখা। বিশ্বাসের যে সংজ্ঞা আমরা সাধারনত শুনি, প্রকৃত সংজ্ঞা তা থেকে একটু আলাদা। এই সংজ্ঞা কোরআনেই বর্ণিত হয়েছে (৯:১১১)। এই সুদৃঢ় বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা আপনাকে আপনার প্রভুর দৃষ্টিতে তাঁর প্রকৃত ও বিশ্বস্ত সেবকদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে সাহায্য করবে। কোরআনে বলা হয়েছে:

إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ ۖ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنجِيلِ وَالْقُرْآنِ ۚ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ ۚ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُم بِهِ ۚ وَذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ .

‘প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের প্রাণ ও ধন-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন৷ তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে এবং মারে ও মরে৷ তাদের প্রতি তাওরাত ,ইনজীল ও কুরআনে(জান্নাতের ওয়াদা) আল্লাহর জিম্মায় একটি পাকাপোক্ত ওয়াদা বিশেষ৷ আর আল্লাহর চাইতে বেশী নিজের ওয়াদা পূরণকারী আর কে আছে? কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে যে কেনা-বেচা করছো সে জন্য আনন্দ করো৷ এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য৷’ (৯:১১১)

আপনি যখন আল্লাহর সাথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবেন, তখন আপনার সমস্ত সম্পদ তাঁর পথে ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকবেন। এটাই আদর্শ অবস্থান। আর আদর্শ মানে পৌছানো খুবই কঠিন তা আপনি ভাল ভাবে বুঝে এবং মেনে নেবেন। আদর্শ সবসময়েই আকাঙ্ক্ষিত । সুতরাং কোন কিছু যদি খুব সহজেই অর্জন করা যায় তাহলে তা আর আদর্শস্থানীয় থাকে না। আপনাকে অবশ্যই সবসময় কাঙ্ক্ষিত আদর্শিক মান ধরে রাখার ইচ্ছা পোষন করতে হবে। আল্লাহর পথে সবকিছু দিয়ে অবিরত চেষ্টা ও সংগ্রামের নামই জিহাদ। অন্যকথায়, আলচ্যক্ষেত্রে ‘তাজকিয়া’। Read the rest of this entry